মিনিয়াপোলিস, ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টিম ওয়ালজ   ছবি: সংগৃহীত

মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিবাসন বিরোধী অভিযানের মধ্যে দ্বিতীয় এক বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর টিম ওয়ালজ। তিনি অবিলম্বে রাজ্য থেকে ‘প্রশিক্ষণহীন’ ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টদের প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।

গত শনিবার মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ (ICU) নার্স অ্যালেক্স প্রাত্তি ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে শহরে ফেডারেল এজেন্টদের হাতে এটি দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

ট্রাম্পের প্রতি গভর্নরের প্রশ্ন :

গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশে গভর্নর ওয়ালজ প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনার পরিকল্পনা কী, ডোনাল্ড ট্রাম্প? আপনার পরিকল্পনাটা আসলে কী?” তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজ্য থেকে এই ফেডারেল এজেন্টদের বের করার জন্য আমাদের আর কী করতে হবে? আপনি কি ভেবেছিলেন ভয়, সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমাদের কাবু করবেন? তাহলে আপনি এই রাজ্যের এবং এই জাতির মানুষকে অবমূল্যায়ন করেছেন।”

ওয়ালজ জোর দিয়ে বলেন, “আমরা এই রাজ্যে আইন ও শান্তিতে বিশ্বাস করি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত তার ৩,০০০ প্রশিক্ষণহীন এজেন্টদের মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নেওয়া, যাতে তারা আর কোনো প্রাণ কেড়ে নিতে না পারে।”

পাল্টাপাল্টি দাবি ভিডিও প্রমাণ :

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রাত্তি নিহতের ঘটনাকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছেন যে, তিনি এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো দ্বারা যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

ভিডিওতে দেখা যায়, এজেন্টরা যখন এক নারীর ওপর কেমিক্যাল স্প্রে (টিয়ার গ্যাস জাতীয়) প্রয়োগ করে তাকে মাটিতে ফেলে দিচ্ছিল, তখন প্রাত্তি মাঝখানে এসে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। সে সময় তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, বরং তিনি ফোন দিয়ে ভিডিও করছিলেন। এজেন্টরা তাকে জাপটে ধরে বরফাবৃত রাস্তায় ফেলে দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রেনে গুড নামে তিন সন্তানের এক জননীও একইভাবে ইমিগ্রেশন অফিসারের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া :

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘটনার জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন। তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেন:

“ডেমোক্র্যাটরা করদাতা এবং আইন মান্যকারী নাগরিকদের চেয়ে অবৈধ অপরাধী এলিয়েনদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কারণেই আজ এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুঃখজনকভাবে এই ডেমোক্র্যাট সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে দুজন আমেরিকান নাগরিকের প্রাণ গেছে।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, মিনেসোটাতে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফেডারেল এজেন্টদের সহযোগিতা করছে না।

উত্তপ্ত মিনিয়াপোলিস :

নার্স প্রাত্তি নিহতের ঘটনায় মিনিয়াপোলিসের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রবিবারের বিক্ষোভে প্রায় ১,০০০ মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ ফেডারেল এজেন্টদের এই ‘আগ্রাসী’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছেন।

সাবেক ফেডারেল কর্মকর্তা থমাস ওয়ারিক বলেন, “আমেরিকানরা অপরাধীদের বহিষ্কার চায় ঠিকই, কিন্তু যেভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং যে ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই