রাফাহ, ইসরায়েল
ইসরায়েল অবশেষে রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল অবশেষে রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই খোলা থাকবে শুধু পায়ে হেঁটে যাতায়াতের জন্য, ট্রাক বা পণ্যবাহী গাড়ি নয়। আর এটাও চালু হবে তখনই, যখন গাজায় আটক শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার অভিযান শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় রোববার রাতে বিবৃতিতে জানায়, “সব জীবিত জিম্মিকে ফেরত দেওয়া এবং মৃতদের মরদেহ শতভাগ খুঁজে বের করতে হামাসের পূর্ণ সহযোগিতার শর্তে রাফাহ ক্রসিং সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হবে। এটা হবে কেবল পথচারীদের জন্য এবং পুরোপুরি ইসরায়েলি নিরাপত্তা তল্লাশির আওতায়।”

এখনো উদ্ধার হয়নি পুলিশ অফিসার রান গভলির মরদেহ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রোববার উত্তর গাজার একটি কবরস্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র বলেছেন,
“আমরা পুরোপুরি স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই ইসরায়েলি সেনার মরদেহের অবস্থান হস্তান্তর করেছি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত আমরা পালন করেছি। এখন মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব ইসরায়েলকে বাধ্য করা যে তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালন করুক।”

গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার জন্য রাফাহই একমাত্র বাহিরের দুয়ার। ২০২৪ সাল থেকে এর গাজা অংশ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রাফাহ দুদিকেই খোলার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল এখন বলছে, পণ্য পরিবহন বা গাড়ি চলাচল হবে না — কেবল মানুষ পায়ে হেঁটে যেতে পারবে, তাও ইসরায়েলি তল্লাশির পর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যের অংশ — গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বের করে দেওয়া। ‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ বইয়ের লেখক অ্যান্থনি লোভেনস্টাইন বলেন,
“মিশরে আটকে থাকা লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ফিরতে চায়। কিন্তু ইসরায়েল চায় তারা বের হোক আর ফিরতে না পারুক। শুধু পায়ে হেঁটে যাতায়াতের অনুমতি দিলে সেই লক্ষ্যই পূরণ হবে। আর যে হাজার হাজার টন ত্রাণ মিশরের গুদামে পচছে, সেগুলো গাজায় ঢুকবে না।”

এদিকে যুদ্ধবিরতি চললেও হামলা থামেনি। রোববার উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় দুজন এবং খান ইউনিসে আরেকজনসহ কমপক্ষে তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সিটিতে ড্রোন হামলায় আরও চারজন আহত।

যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪৮০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দুই বছরের যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭১,৬৫৭ জন, আহত প্রায় সোয়া এক লাখ ৭১ হাজার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে। কিন্তু রাফাহ খুললেও গাজার জন্য আসল স্বস্তি আসছে না — এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই