মিনিয়াপোলিস, ডোনাল্ড ট্রাম্প
রক্তপাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহর ছাড়ছেন শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো   ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহের শেষে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দ্বিতীয় এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহর ছাড়ছেন শীর্ষ অভিবাসন কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো। তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’ (সীমান্ত বিষয়ক প্রধান) হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান।

শনিবার অ্যালেক্স প্রেটি নামের এক ব্যক্তি গুলিতে নিহত হওয়ার পর মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার জেরে হোয়াইট হাউস তাদের কঠোর অভিবাসন অভিযানে কিছুটা সুর নরম করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যালেক্স প্রেটি হত্যাকাণ্ড বিতর্ক :
শনিবার ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন অ্যালেক্স প্রেটি। তিনি পেশায় একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন এবং তাকে ঘটনার সময় এজেন্টদের ভিডিও করতে দেখা গিয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো দাবি করেছিলেন, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ওপর "গণহত্যা" চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) দাবি করেছে, প্রেটির কাছে হ্যান্ডগান ছিল এবং তিনি অস্ত্র সমর্পণে বাধা দেওয়ায় এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং নিহতের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, প্রেটির হাতে অস্ত্র নয়, একটি মোবাইল ফোন ছিল। প্রেটির বাবা-মা প্রশাসনের এই দাবিকে "অসুস্থ মিথ্যাচার" বলে অভিহিত করেছেন।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রেনি নিকোল গুড নামে আরেক মিনিয়াপোলিস বাসিন্দা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টের গুলিতে নিহত হন।

নেতৃত্বে রদবদল :
গ্রেগরি বোভিনো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কট্টর বাস্তবায়নকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত অভিযানের ভিডিও প্রচার করতেন। তবে প্রেটি হত্যাকাণ্ডের পর তার মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু গণমাধ্যমে তাকে বরখাস্তের খবর এলেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র তা অস্বীকার করে তাকে "প্রেসিডেন্টের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার জায়গায় আসা টম হোম্যান সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে রিপোর্ট করবেন। তিনিও কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক, তবে ওবামা প্রশাসনেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

রাজনৈতিক পদক্ষেপ তদন্ত :
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসের ডেমোক্র্যাটিক মেয়র জ্যাকব ফ্রে এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজের সঙ্গে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। গভর্নর ওয়ালজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মিনেসোটা থেকে ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা কমানোর এবং প্রেটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য ব্যুরো অফ ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশনকে স্বাধীন তদন্ত করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

এর আগে স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন যে, ফেডারেল এজেন্টরা তাদের ক্রাইম সিনে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না এবং তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে। রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিসও এই ঘটনার স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জনমনে আতঙ্ক বিক্ষোভ :
বোভিনো চলে গেলেও মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। জর্জ কর্ডেরো নামের এক বাসিন্দা বলেন, "অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, কাজে যেতে পারছেন না।"

শহরে বর্তমানে ৩০০০-এর বেশি অভিবাসন এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। সোমবার রাতেও আইসিই-এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বিক্ষোভকারীরা বোভিনো যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, তার সামনে জড়ো হয়ে তাকে শহর ছাড়ার স্লোগান দেয়। মঙ্গলবার মেয়র ফ্রে এবং টম হোম্যান পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।

 

সূত্র : বিবিসি

আরটিএনএন/এআই