যুক্তরাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরান, মার্কিন নৌবহর, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তেজনা,
ইরান অভিমুখে আরও মার্কিন নৌবহর।   ছবি: সংগৃহীত

রানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে মোতায়েনের পর এবার ইরান অভিমুখে আরও একটি নৌবহর পাঠানোর কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বড় পরিসরে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে রয়েছে। আমি আশা করছি, তারা সমঝোতায় রাজি হবে।’ তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়েছে। যদিও ট্রাম্প আলোচনার আশাও প্রকাশ করেছেন, তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপ তৈরির কৌশল নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ট্রাম্পের এমন হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত বুধবার স্পষ্টভাবে বলেন, হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা করতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, “সামরিক হুমকির মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না। তারা যদি সত্যিই আলোচনা চায়, তাহলে হুমকি ও অযৌক্তিক দাবি বন্ধ করতে হবে।”

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমানবাহিনী শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনব্যাপী একটি প্রস্তুতি সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যুদ্ধবিমান মোতায়েন, সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা। পাশাপাশি, নমনীয় ও দ্রুত হামলা চালানোর প্রস্তুতিও যাচাই করা হবে। তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্থান এবং ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই নৌবহরে রয়েছে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান, প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক এবং একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার। সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ থেকে নৌবহরকে রক্ষা করতে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতে যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপের মাধ্যমেই সব মতপার্থক্য মেটানো উচিত। একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও। তারাও জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে তারা তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

এর মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। দেশটিতে বেশ কিছুদিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাধারণ পথচারীরাও রয়েছেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় দমন-পীড়নের ঘটনা। তবে ইরান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিদেশে থাকা বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ কারণেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।