বেলুচিস্তান, বিচ্ছিন্নতাবাদী, পাকিস্তান
বেলুচিস্তানে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছন্নতাবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে চলা ব্যাপক অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জন বিদ্রোহী এবং ২২ জন সেনাসদস্যসহ মোট ২৫৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অভিযানের প্রেক্ষাপট
গত ৩১ জানুয়ারি, বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশটির অন্তত ১২টি শহরে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালায়। কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, গোয়াদরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এই হামলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিএলএর এই সমন্বিত আক্রমণকে কেন্দ্র করেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযান শুরু করে।

প্রাণহানির পরিসংখ্যান
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দিনের সহিংসতায় শিশু ও নারীসহ ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত হয়েছেন ২২ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্য। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯৭ জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার নিহত বিদ্রোহীদের ‘ভারত-সমর্থিত’ বলে অভিহিত করেছে এবং তাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল বলেও জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর বক্তব্য
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা প্রদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ওপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। আইএসপিআর এই গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, গোয়েন্দা তথ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে এসব হামলার ছক দেশের বাইরে কষা হয়েছিল এবং নির্দেশদাতারা হামলার সময় সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছিল।

জঙ্গি তৎপরতা নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে বিএলএ এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি কোম্পানি এবং অন্য প্রদেশ থেকে আসা শ্রমিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। গত বছরও যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার পর প্রদেশটিতে দীর্ঘসময় ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করেছিল।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ‘স্যানিটাইজেশন’ বা তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারী ও তাদের সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার।

 

সূত্র : জিও নিউজ

আরটিএনএন/এআই