সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিশ্চিত করেছেন যে, এই সপ্তাহেই ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর দেশের পরমাণু আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার রাতে আরাকচি জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (০৬:০০ জিএমটি) মাস্কাটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বৈঠকের স্থান ও কাঠামো নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরাকচি লেখেন, "প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের ওমানি ভাইদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।"
আলোচনার প্রেক্ষাপট ও স্থান পরিবর্তন
মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে "ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার" নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিশ্চিত করেছে যে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তুরস্কে নয়, বরং ওমানেই ইরানের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে অংশ নেবে ওয়াশিংটন।
আলোচনার বিষয়বস্তু ও শর্ত
আল জাজিরাকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামনে আলোচনার জন্য একটি মূল কাঠামোগত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জানান, এই রূপরেখায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র বা প্রোক্সি বাহিনীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে থাকবে।
বাড়ছে উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কা
আলোচনাটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের দামামা বাজছে। গত মাসে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব সাগরে সৈন্য সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন কেবল পরমাণু কর্মসূচি নয়, বরং অন্যান্য উদ্বেগের বিষয় নিয়েও আলোচনা করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক প্রোক্সি নেটওয়ার্ক এবং নিজ জনগণের সঙ্গে ইরান সরকারের আচরণ। রুবিও বলেন, "ইরানের বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্ব দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। শাসক ও শাসিতের মধ্যে এত বড় ব্যবধান আমি অন্য কোনো দেশে দেখিনি।"
অতীত অভিজ্ঞতা
১৯৮০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক নয়। গত জুনেও ওমানের রাজধানীতে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য দুই পক্ষের কর্মকর্তারা মিলিত হয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে ইরানের কয়েকটি পরমাণু কেন্দ্রে বোমা বর্ষণ করলে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!