তাইওয়ান ইস্যুটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে এমন মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। স্বশাসিত দ্বীপটিতে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ‘বিচক্ষণ ও সতর্ক’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, শি জিনপিং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মতপার্থক্য দূর করার উপায় খুঁজে বের করবে। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ফোনালাপকে ‘চমৎকার’ এবং ‘দীর্ঘ ও বিশদ’ আলোচনা বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে, যার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান।
বাণিজ্য ও সয়াবিন প্রসঙ্গ
ট্রাম্প উল্লেখ করেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিবেচনা করছে। বর্তমানে তারা ১ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন কিনলেও তা বাড়িয়ে ২ কোটি টনে উন্নীত করার কথা হচ্ছে।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেন, “চীনের সঙ্গে এবং প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আমরা উভয়ই বুঝি এই সম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জরুরি।” উভয় নেতা সর্বশেষ গত নভেম্বরে ফোনে কথা বলেছিলেন। এবারের আলোচনায় তাইওয়ান ও সয়াবিন ছাড়াও ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তাইওয়ান নিয়ে কঠোর বার্তা
শি জিনপিং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাইওয়ান ‘চীনের ভূখণ্ড’ এবং বেইজিং অবশ্যই তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে। সিনহুয়া বার্তা সংস্থা অনুযায়ী শি সতর্ক করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।”
চীন দীর্ঘকাল ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ওয়াশিংটন দ্বীপটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী এবং শক্তিশালী মিত্র।
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৮.২ বিলিয়ন পাউন্ড) বিশাল অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিল। এর মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার, স্বয়ংক্রিয় হাউইটজার এবং বিভিন্ন ধরনের মিসাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। বেইজিং তখন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিল, এটি তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার নামান্তর এবং তাইওয়ান প্রণালীতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
পারস্পরিক সম্মান ও পুতিন প্রসঙ্গ
ফোনালাপে শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যেমন নিজস্ব উদ্বেগ আছে, চীনেরও তেমনই উদ্বেগ রয়েছে। যদি দুই পক্ষ সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে একই লক্ষ্যে কাজ করে, তবে আমরা নিশ্চয়ই একে অপরের উদ্বেগ নিরসনের উপায় খুঁজে পাব।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে উভয় নেতা বেইজিং ও মস্কোর সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একে অপরের প্রশংসা করেন।
সূত্র : বিবিসি
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!