সুত্তাসিত “ম্যাকি” পত্তাসাক থাইল্যান্ডের পিপলস পার্টির একজন আদর্শ প্রার্থী—তরুণ, উদ্যমী ও পরিশ্রমী। তিনি ব্যাংককের টিভি ড্রামা প্রযোজনার ক্যারিয়ার ছেড়ে রাজনীতিতে নেমেছেন এবং গত নির্বাচনে একটি গ্রামীণ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’-এর লুফি চরিত্রের টুপি ও পতাকা ব্যবহার করে তিনি প্রচার চালান, যা তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী রোববারের নির্বাচনে পিপলস পার্টি তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে। তবে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে শুধু নির্বাচনে জেতাই সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়।
অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
তিন বছর আগে পিপলস পার্টির পূর্বসূরি ‘মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি’ নির্বাচনে অভাবনীয় জয় পেয়েছিল। তারা সেনাবাহিনী ও রাজতন্ত্রের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অনির্বাচিত সিনেট ও সাংবিধানিক আদালতের হস্তক্ষেপে তাদের সরকার গঠন আটকে দেওয়া হয়, দল ভেঙে দেওয়া হয় এবং নেতাদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়।
এখন নতুন নামে ফিরে আসা পিপলস পার্টির নেতৃত্বে আছেন ৩৮ বছর বয়সী সাবেক সফটওয়্যার প্রকৌশলী নাথাপং রুয়েংপানিয়াউত। তিনি রকস্টারের মতো জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন। তবে দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় আছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশেরও কম, পারিবারিক ঋণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিদ্বন্দ্বী দল
পিপলস পার্টি সংবিধান সংশোধন, আমলাতন্ত্রের সংস্কার, শিক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং সেনাবাহিনী ও বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের ‘ভুমজাইথাই পার্টি’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ‘ফিউ থাই পার্টি’। এই দুই দল মূলত নগদ অর্থ সহায়তা ও জাতীয়তাবাদী আবেগকে পুঁজি করে প্রচার চালাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তাৎক্ষণিক সহায়তার চেয়ে পিপলস পার্টির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দেশের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।
ভবিষ্যৎ শঙ্কা
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই এই দলটি রক্ষণশীলদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বারবার দল ভেঙে দেওয়া ও নেতাদের নিষিদ্ধ করার পরেও তাদের জনপ্রিয়তা কমেনি। দলের অন্যতম নেতা থানাধর্ন জুয়াংরুংরুয়াংকিট বলেন, “তারা আমাদের ভয় পায়। তারা চায় আগামী কালও যেন গতকালের মতোই থাকে। কিন্তু বাস্তবে আমরা আরও বড় হচ্ছি।”
নির্বাচনে জিতলেও পিপলস পার্টির সামনে সরকার গঠনের পথ মসৃণ নয়। তাদের ৪৪ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা চলছে, যা তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করতে পারে। থাইল্যান্ডের গণতন্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সিরিপান বলেন, “এখানে নিয়মিত নির্বাচন হয় ঠিকই, কিন্তু কে দেশ শাসন করবে তা ভোটাররা নন, বরং অভিজাত শ্রেণি ও অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোই ঠিক করে দেয়।”
সূত্র : বিবিসি
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!