তারেক রহমান
তারেক রহমান।   ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিককে দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না।
 
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। 

সব শহীদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা না গেলে, দেশের ডেমোক্রেসি, ডেভেলপমেন্ট কিংবা ডিসেন্ট্রালাইজেশন কোনো কিছুই টেকসই হবে না। 

তিনি বলেন, আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের সমর্থন পেলে আগামী দিনে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যতটা কঠোর হওয়া যায় বিএনপি সরকার ইনশাল্লাহ ততটাই কঠোর হবে। দেশে পুনরায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ। দেশবাসীর কাছে এটি আমার অঙ্গীকার। বিএনপির অঙ্গীকার।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন ও অপহরণ করা হয়েছিল। ‘আয়নাঘর’ নামক এক বর্বর বন্দিশালা যেন হয়ে উঠেছিল জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান। শুধুমাত্র ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩১ হাজার মানুষ।

‘আমি বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব শহীদদের মাগফেরাত কামনা করছি। আহতদের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা। ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫-এর ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। আমাদের উচিত তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।’

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অগ্রাধিকার বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি মানুষের জনবহুল দেশ। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী এবং বিশাল একটি অংশ তরুণ। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। আমাদের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার হবে বেকার সমস্যা নিরসন। ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজারের সংস্কারের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা আমরা নির্ধারণ করেছি।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিনামূল্যে কারিগরি শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা, ডাটা প্রসেসিং ও এআই সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক বছর মেয়াদী ‘বেকার ভাতা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপি নিয়েছে।