যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন হাজিরা দিতে যাচ্ছেন। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের পরিচালিত প্রভাব ও অপরাধের নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত করছে কমিটি। উভয় জবানবন্দি নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকোয়ায় ক্লিনটন দম্পতির বাসভবনের কাছাকাছি স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কংগ্রেশনাল জবানবন্দি কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
এটি হলো কংগ্রেসের তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের বাইরে দেওয়া শপথবদ্ধ সাক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ায় সাক্ষীরা—এ ক্ষেত্রে ক্লিনটন দম্পতি—শপথ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কমিটির আইনজীবী ও তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেবেন। পুরো সেশনটি রেকর্ড ও ট্রান্সক্রিপ্ট (লিখিত রূপ) করা হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
শুরুতে ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে হাউস কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে দ্বিদলীয় ভোটের হুমকি দিলে, যা ফৌজদারি মামলার দিকে মোড় নিতে পারত, শেষ পর্যন্ত তারা রাজি হন। হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, "কেউ ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ করছে না। আমাদের শুধু অনেক প্রশ্ন আছে।"
কখন এবং কীভাবে এই জবানবন্দি অনুষ্ঠিত হবে?
জবানবন্দি ক্যাপিটল হিলের পরিবর্তে চ্যাপাকোয়ায় ক্লিনটনদের বাড়ির কাছে নেওয়া হবে। হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। পরদিন, ২৭ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা। উভয় জবানবন্দি রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এবং তা রেকর্ড করা হবে। সাধারণত অফিস সময়ে (সকাল ৯টা-১০টা) জবানবন্দি শুরু হয়, তবে কমিটি নির্দিষ্ট সময় প্রকাশ করেনি।
ক্লিনটন দম্পতি এবং রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমস কোমারের মধ্যে কয়েকমাসের টানাপোড়েনের পর এই সমঝোতা হয়েছে। এর আগে বিল ক্লিনটনকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এবং পরে ডিসেম্বরে ডাকা হয়েছিল, কিন্তু তিনি উপস্থিত হননি। হিলারি ক্লিনটনও একই বছর অক্টোবর ও ডিসেম্বরে হাজিরা এড়িয়ে যান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন তারিখ দেওয়া হলেও তারা আসেননি।
ক্লিনটনরা দাবি করেছিলেন যে এই সমনগুলো আইনত অবৈধ এবং এটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ। তবে চলতি মাসের শুরুতে তারা শুধু রাজিই হননি, বরং জবানবন্দি জনসম্মুখে করার দাবিও জানিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, এতে প্রমাণিত হবে যে তাদের লুকানোর কিছু নেই এবং রিপাবলিকানরা বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করতে পারবে না।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় তিন দশক আগের কথা, যখন বিল ক্লিনটন পলা জোনস যৌন হয়রানি মামলায় ছয় ঘণ্টার ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেই জবানবন্দিতে মনিকা লেউইনস্কির সাথে সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা বলায় পরে তার বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
হাউস ওভারসাইট কমিটি কী তদন্ত করছে?
কমিটি মূলত জেফরি এপস্টাইন এবং তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে। এপস্টাইন ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী, যিনি তার প্রভাব ও অর্থ ব্যবহার করে দীর্ঘ এক দশক ধরে নাবালিকা পাচার ও নির্যাতনের চক্র গড়ে তুলেছিলেন।২০১৯ সালে তিনি ম্যানহাটনের জেলহাজতে আত্মহত্যা করেন।
বিল বা হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এপস্টাইনের সাথে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। তবে ২০২৪ সালে এপস্টাইন-সম্পর্কিত আদালতের নথিতে বিল ক্লিনটনের নাম আসার পর তদন্ত জোরালো হয়। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আরও নথি প্রকাশের পর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। কমিটি মূলত তদন্ত করছে:
এপস্টাইন ও তার সহযোগী ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তে অব্যবস্থাপনা। জেলে এপস্টাইনের মৃত্যুর পরিস্থিতি ও পরবর্তী তদন্ত। যৌন পাচার চক্রের কার্যক্রম এবং তা দমনের উপায়। এপস্টাইন ও ম্যাক্সওয়েল কীভাবে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতেন। বর্তমান ও সাবেক নির্বাচিত কর্মকর্তাদের নৈতিকতা লঙ্ঘন।
জেফরি এপস্টাইনের সাথে বিল ক্লিনটনের সম্পর্ক কী ছিল?
বিল ক্লিনটন স্বীকার করেছেন যে ২০০০-এর দশকের শুরুতে তিনি এপস্টাইনকে চিনতেন। ফ্লাইটের লগ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ক্লিনটন একাধিকবার এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন। সিএনএন-এর বিশ্লেষণ মতে, ২০০২ ও ২০০৩ সালে অন্তত ১৬ বার তার নাম ফ্লাইটের লগে পাওয়া গেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই ভ্রমণগুলো ছিল ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজের অংশ এবং তাদের সম্পর্ক ওই ভ্রমণ ও বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি তখন জানতেন না। ২০২৪ সালে প্রকাশিত নথিতে ক্লিনটনের নাম থাকলেও কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না। তবে কিছু ছবিতে ক্লিনটনকে এপস্টাইন ও ম্যাক্সওয়েলের সাথে দেখা গেছে।
হিলারি ক্লিনটনের কি এপস্টাইনের সাথে সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল?
হিলারি ক্লিনটনের সাথে এপস্টাইনের সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টাইন ফাইলে তার নাম ৭০০ বারের বেশি থাকলেও, তার অধিকাংশই ছিল ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণাসংক্রান্ত নিউজ আর্টিকেল।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে তিনি কখনো এপস্টাইনকে দেখেননি। তবে ম্যাক্সওয়েলের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি স্বীকার করেন যে তিনি ম্যাক্সওয়েলের সাথে "কয়েকবার" দেখা করেছিলেন। এছাড়া ২০১০ সালে চেলসি ক্লিনটনের বিয়েতেও ম্যাক্সওয়েল উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
সূত্র : সিএনএন/এআই
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!