ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন সদস্য। এই মুহূর্তে দুটি প্রধান সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উঠে আসছে, প্রথমত, আলী খামেনি নিজে মৃত্যুর আগে চারজনের নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানা গেছে। এটিই একটি সম্ভাব্য পথ। এছাড়া অন্য পরিস্থিতিটি হলো— অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য চার সদস্যের একটি নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হবে, যারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবেন।

এই সব কিছুই নির্ভর করছে ইরানের নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেদের কীভাবে দেখতে চায় তার ওপর। তারা কি খামেনির দেখানো ‘প্রতিরোধের পথ’ অব্যাহত রেখে পুরোপুরি প্রতিরোধের দিকেই এগোবে, নাকি আবার ফিরে আসবে কূটনীতির ধারায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিবিসি লাইভের খবরে বলা হয়, ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার তত্ত্বাবধান করবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা। বিবিসি লাইভের আরেক খবরে বলা হয়, এখন অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংবিধান অনুযায়ী, এটি যত দ্রুত সম্ভব, সম্পন্ন করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যে নিরাপত্তার কারণে দ্রুত সবার সমবেত হওয়া কঠিন হতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘আটলান্টিক কাউন্সিল’-এর উপদেষ্টা এবং কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কিলোয়েন গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান হারলান উলম্যান মনে করেন, খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বিশাল ভুল’ করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উলম্যান বলেন, “তিনি (খামেনি) এখন একজন ‘শহীদ’ হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি আলী লারিজানি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন ব্যক্তি। তিনি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একজন অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।”

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকালে গতকাল শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নিহত হন খামেনি। খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। বিবিসির খবরে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে ইরানজুড়ে তীব্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই