ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতির সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতির সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী।   ছবি: আরটিএনএন

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না। পুরো প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, ডিজিটাল ও ত্রুটিমুক্ত।

রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পাঁচজন সদস্য নিয়ে একটি পরিবারকে একটি ‘হাউসহোল্ড’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাঁচজনের বেশি সদস্য হলে সেটি দ্বিতীয় হাউসহোল্ড হিসেবে গণ্য হবে। পরিবারের দায়িত্বশীল নারী সদস্যের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। কার্ডে পরিবারের সব সদস্যের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যামিলি ট্রি হিসেবে কাজ করবে।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ডাটা সংগ্রহে সহায়তা করছেন।

তিনি আরও জানান, কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, বাগানবাড়ী ও অলিরটেকসহ ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে উপজেলা ভিত্তিতে ওয়ার্ড নির্বাচন করে কাজ চলছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ মার্চের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ এবং ৫ মার্চের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি সম্পন্ন হবে। ৮ মার্চের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি শেষ করে ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে 'ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সব সরকারি সুবিধা একটি কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। কারও হাতে নগদ অর্থ দেওয়া হবে না; বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা সুপারিশের সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, ঈদুল ফিতরের পর দ্বিতীয় ধাপে এবং আগামী অর্থবছর থেকে সারাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সবার সহযোগিতায় একটি নির্ভুল ও সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।