গাজা, ফিলিস্তিন, হামাস, ইসরায়েল
তেহরানে শোকে অশ্রুসিক্ত একজন নারী   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির পোস্ট করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ শোক পালন শুরু করেছেন। ভিডিওতে মানুষকে বুক ও মাথায় চাপড়াতে (মাতম করতে) দেখা গেছে, যা ইরানে শোক প্রকাশের প্রচলিত প্রথা। তেহরান টাইমস পত্রিকার তথ্যমতে, লোরেস্তান প্রদেশেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। রাজধানী তেহরানসহ ইয়াসুজের মত বিভিন্ন শহরে শোক পালন করছে হাজার-হাজার মানুষ।

ইরানের জনগণের বর্তমান মনোভাব বা মেজাজ হলো বিভিন্ন অনুভূতির এক মিশ্রণ। দেশটির সামাজিক কাঠামোতে আমরা স্পষ্ট মেরুকরণ লক্ষ্য করছি। সমাজের একটি অংশ রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা সরকারের পক্ষে রয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, তেহরান এবং মাশহাদ ও কোমের মতো সারা দেশের বিভিন্ন শহরে প্রচুর মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।

অন্যদিকে, সমাজের আরেকটি অংশ রয়েছে যাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বরে আমরা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখেছি, যা পরবর্তীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। সুতরাং, এখানে মূলত তিনটি দল বা পক্ষ দেখা যাচ্ছে: একদল সরকারপন্থি মানুষ; একদল মানুষ যারা বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট; এবং এই দুইয়ের মাঝখানে থাকা একটি 'ধূসর' বা নিরপেক্ষ অংশ।

তবে দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যেই এক ধরণের হতাশা ও উদ্বেগ কাজ করছে। এর কারণ হলো, দেশটির ওপর যখন হামলা চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনাটি (খামেনির হত্যাকাণ্ড) ঘটল। গত বছরের জুনেও ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপকতা ও মাত্রা তার সাথে তুলনীয় নয়—এখন ঝুঁকি অনেক অনেক বেশি।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই