ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, খোমেনি, ট্রাম্প, ইসরায়েল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি   সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, `আঞ্চলিক দেশগুলোর ক্ষোভ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হওয়া উচিত, ইরানের ওপর নয়। আমি এই অঞ্চলের আমার সকল প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। আমরা তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানি; তারা খুশি নয়, কেউ কেউ এমনকি ক্ষুব্ধ, আবার কেউ কেউ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে। আমি চাই তারা বুঝুক যে, এই অঞ্চলে যা ঘটছে তা আমাদের দোষ বা আমাদের পছন্দ নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি যুদ্ধ। তাই তারা যদি ক্ষুব্ধ হয়, তবে তাদের ক্ষোভ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হওয়া উচিত।’ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেে এসব কথা বলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থামানোর জন্য তারা যেন আমাদের ওপর চাপ না দেয়, বরং তাদের উচিত অপর পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। মার্কিন সেনাবাহিনী আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আত্মরক্ষা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। অবশ্যই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারি না। তাই এই অঞ্চলে তাদের ঘাঁটি এবং যেসব স্থাপনা তারা ব্যবহার করছে, সেগুলোর মোকাবেলা আমাদের করতে হবে। আমরা তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ শুরু করেছি; তারা ঘাঁটিগুলো খালি করে হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এবং নিজেদের রক্ষায় মানব ঢাল তৈরি করেছে... তাই আমরা মূলত শুধু সেই সামরিক কর্মী ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছি যেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করছে।’

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। এছাড়াও এই মুহূর্তে "নৌচলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ারও পরিকল্পনা নেই।" ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইরান "সর্বদা কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়—যারা আলোচনার মাঝেই আমাদের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো আক্রমণ চালিয়েছে।"

কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ইঙ্গিত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রয়েছে এবং দেশে "সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে।" আরাকচি বলেন, "আপনারা হয়তো এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন দেখতে পাবেন।"

সবকিছু নিয়মে চলছে’, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চলমান

খামেনির মৃত্যুর পর নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে  আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ‘আমাদের সংবিধানে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা এখন সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আজ অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ (Transition Council) গঠন করা হয়েছে। এটি গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট বা আইনজ্ঞকে নিয়ে। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই তিনজনের দলটি নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবে। এরপর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) দ্বারা নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমার ধারণা, এতে খুব অল্প সময় লাগবে। হয়তো এক বা দুই দিনের মধ্যেই তারা দেশের জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করবেন। সুতরাং সবকিছুই আমাদের আইনি ব্যবস্থা ও সংবিধান মেনে সুশৃঙ্খলভাবে চলছে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছেন যে, ইরান তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। আল জাজিরার বরাতে দ্য কাস্পিয়ান পোস্ট জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান তার ভাষণে বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী "কঠোর আঘাত হানা অব্যাহত রাখবে" এবং "শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা চালিয়ে যাবে।" তিনি আরও বলেন, ইরান সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে এবং তিনি বিপ্লবের নেতার শাহাদাতবরণকে দীর্ঘ বছরের ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই