মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প   ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পরই ট্রাম্প নরম থাকার কোনও ইঙ্গিত দেননি। ক্যারিবীয় সাগর, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্য প্রায় সব অঞ্চলে তার সামরিক নির্দেশনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সাতটি দেশে তিনি সামরিক হামলা চালিয়েছেন।

ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অভিযান
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান। মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একাধিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানগুলোতে শুধু মাদক পাচার বন্ধ নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকির মোকাবিলাকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

নাইজেরিয়া ও সিরিয়ায় হামলা
গত বড়দিনের সময় নাইজেরিয়ায় মার্কিন বাহিনী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ডিসেম্বর থেকে সিরিয়াতেও আইএস বিরোধী দফা অভিযান চালানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেখছে।

ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অপারেশন
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনী একটি বিশেষ অপারেশন রেইড পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করা হয়। অভিযানের সময় আনুমানিক ৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিতর্ক ও শঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরান, ইরাক, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে হামলার নির্দেশ
এর আগে ট্রাম্প ইরান, ইরাক, সোমালিয়া ও ইয়েমেনে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি ইরানে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তেহরানের সামরিক বাহিনী ধ্বংসের এবং সেখানে সরকার পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই যৌথ হামলা যতদিন প্রয়োজন চলবে। তার এই মন্তব্য পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানও তৎপর। তেহরান ও অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি দিয়েছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বড় আকারের আক্রমণাত্মক বাহিনী মোতায়েন করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ দেয়া হলেও কূটনৈতিক আলোচনা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ফলে পরিস্থিতি যে দিকে গড়াবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে আরও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।