নতুন আইআরজিসি (IRGC) প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির নিয়োগ কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয়। গত ডিসেম্বরে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি – যিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন – তাকে বাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। এর আগে, তিনি ইরানের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে ইসলামিক রেভিলিউশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সূচনালগ্ন থেকেই এর সাথে যুক্ত ছিলেন ওয়াহিদি। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো অলংকৃত করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীর অভিজাত শাখা 'কুদস ফোর্স'-এর নেতৃত্ব দেন।
১৯৯৮ সালে তিনি কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব কাসেম সোলেইমানির হাতে তুলে দেন। ২০২০ সালে গুপ্তহত্যার শিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল কারিগর হিসেবে সোলেইমানিকেই ব্যাপকভাবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। প্রকাশ্যে ইসলামি বিপ্লবের নীতি ও লক্ষ্য সমুন্নত রাখার প্রতি ওয়াহিদি যেন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। গত ডিসেম্বরে আইআরজিসির উপ-প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, "ইসলামি বিপ্লবকে রক্ষা করা বিশ্বের অন্যতম মহৎ একটি কাজ, আর সবচেয়ে বড় পাপ হলো ইসলামি ব্যবস্থার বিরোধিতা করা।"
ইসলামি বিপ্লবের ৪৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৫ সালে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওই অভ্যুত্থানকে "আলোর বিচ্ছুরণ" হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যা এই অঞ্চল এবং গোটা বিশ্বের ইতিহাস ও নিয়তি বদলে দিয়েছে। তবে তেহরানের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে তাকে বাস্তববাদেরও (pragmatism) প্রমাণ দিতে দেখা গেছে।
জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যকার এক গোপন যোগাযোগে অংশ নিয়েছিলেন ওয়াহিদি। এর সাথে বহুল আলোচিত 'ইরান-কন্ট্রা' কেলেঙ্কারির যোগসূত্র ছিল, যে ঘটনার মাধ্যমে মার্কিন কর্মকর্তারা গোপনে ইরানে অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক 'আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউট'-এর ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলি আলফোনেহ আল জাজিরাকে বলেন, ওই আলোচনাগুলোতে যুক্ত থাকার সুবাদে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওয়াহিদির "গভীর জানাশোনা" বা নিবিড় পরিচয় রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় কর্মজীবন
নিজের আগের দুই পূর্বসূরির মতো ওয়াহিদি কেবল একজন সামরিক ব্যক্তিত্বই নন। তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মেয়াদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি এবং ২০২৪ সালে ওই দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন।
আলি আলফোনেহ আল জাজিরাকে আরও বলেন, ওয়াহিদি একজন "অত্যন্ত দক্ষ আমলা"। তার এই অতীত অভিজ্ঞতাই তাকে "যুদ্ধকালীন একজন প্রধান নেতা এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের একজন আদর্শ প্রধান কমান্ডারে পরিণত করেছে, কারণ এই বাহিনীটি নেহায়েত একটি সামরিক সংগঠনের চেয়েও অনেক বড় কিছু।"
সূত্র : আল জাজিরা ও ইয়াহু নিউজ
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!