ইরান, ট্রাম্প, খামেনি, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, আরাকচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি   ছবি: সংগৃহীত

আইআরআইবি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি বলেছেন: "ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন—তবে শর্ত ছিল, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর আকাশসীমা, স্থলভাগ এবং জলসীমা ব্যবহার করে ইরানি জনগণের ওপর কোনো হামলা চালানো যাবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শক্তি, দৃঢ়তা এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল হিসাব-নিকাশ করার কারণে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।"

আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, "ট্রাম্পের এক সপ্তাহের এই হঠকারিতায় এ যুদ্ধে নিহত তরুণ মার্কিন সেনাদের প্রাণের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতোমধ্যেই ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের ক্ষতি হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, বাজারগুলো খুললে এই ব্যয়ের মাত্রা আরও তীব্রভাবে বাড়বে, যার চূড়ান্ত বোঝা বইতে হবে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের—বিশেষ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে (জ্বালানির দামে)।

আরাগচি আরও বলেন: "ট্রাম্প প্রশাসনের 'ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল', যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ মূল্যায়নের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা আগেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়।" আরাগচি বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূতদের সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, যুদ্ধ তাদের দরকষাকষির অবস্থানকে কোনোভাবেই শক্তিশালী করবে না। আমার সেই সতর্কতাগুলো কি আদৌ তাঁর (ট্রাম্পের) কাছে পৌঁছানো হয়েছিল?"

পরিশেষে আরাগচি যুক্ত করেন: "মার্কিন জনগণ পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্যে) ব্যয়বহুল সংঘাতের অবসান ঘটাতেই ভোট দিয়েছিল। কিন্তু তার বদলে তারা এখন এমন এক প্রশাসনের মুখোমুখি, যাকে কয়েক দশকের ব্যর্থতার পর নেতানিয়াহু অবশেষে ধোঁকা দিয়ে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধ করতে রাজি করাতে পেরেছেন।"

সূত্র : পার্স টুডে

আরটিএনএন/এআই