'টার্কিশ রিপাবলিক অব নর্দান সাইপ্রাস'-এর এক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সেখানে বসবাসরত তুর্কি সম্প্রদায়ের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে সোমবার উত্তর সাইপ্রাসে ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এর আগে শনিবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছিল যে, এই অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে তুর্কি সাইপ্রিয়ট রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার অংশ হিসেবে সাইপ্রাসে এফ-১৬ বিমান মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক।
এই অঞ্চলে, বিশেষ করে সাইপ্রাসকে ঘিরে একাধিক ঘটনার পর সৃষ্ট চরম উত্তেজনার রেশ ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত সপ্তাহে ইরান দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা দ্বীপটিতে থাকা ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়। যদিও সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রে ছিটকে পড়ে। এছাড়া, দক্ষিণ সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ। এসব ঘটনার ফলে ইসরায়েল, ইরান এবং তাদের ছায়াশক্তিগুলোর (প্রক্সি) মধ্যকার বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের আঁচ এই দ্বীপটিতেও এসে লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্রটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, টিআরএনসি-কে সুরক্ষার জন্য নেওয়া একাধিক ব্যবস্থার একটি হিসেবে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তুরস্ক এই অঞ্চলটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। গ্রিস-সমর্থিত এক সামরিক অভ্যুত্থানের জবাবে ১৯৭৪ সালে সাইপ্রাসে তুরস্কের অভিযানের পর প্রতিষ্ঠিত এই টিআরএনসি কেবল আঙ্কারার (তুরস্কের) স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাকিরা এটিকে 'দখলকৃত ভূখণ্ড' হিসেবেই বিবেচনা করে। অন্যদিকে 'রিপাবলিক অব সাইপ্রাস' (দ্বীপের দক্ষিণাংশ, যা গ্রিক সাইপ্রিয়টদের দ্বারা পরিচালিত) হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সদস্য রাষ্ট্র।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মধ্যে সমর্থনের নিদর্শন হিসেবে গ্রিস সম্প্রতি দক্ষিণ সাইপ্রাসের পাফোসে দুটি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ)-এর পাশাপাশি চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। মূলত এর পরপরই তুরস্ক এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। তুরস্কের এই পদক্ষেপে গ্রিস ও সাইপ্রাস উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা একে দীর্ঘকাল ধরে বিভক্ত একটি দ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাঁয়তারা হিসেবে দেখছে, যেখানে কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী একটি 'বাফার জোন' (নিরাপদ মধ্যবর্তী অঞ্চল) বজায় রেখেছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট অনলাইন
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!