পদ্মায় বাসডুবি: তৃতীয় দিনের মতো নদীতে ডুবুরিরা।
পদ্মায় বাসডুবি: তৃতীয় দিনের মতো নদীতে ডুবুরিরা।   ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের সামনে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছিল উদ্ধার অভিযান।

ফায়ার সার্ভিসের ৬ জন এবং নৌবাহিনীর ৬ জন ডুবুরি মিলিয়ে মোট ১২ সদস্যের একটি উদ্ধার দল অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস রাজবাড়ী স্টেশন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান মো. সোহেল রানা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পানির নিচে আরও মরদেহের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।

গতকাল রাত পর্যন্ত কোনো নতুন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বালিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তা আক্তার নামের এক নারী তার বড় ভাই রিপন শেখ নিখোঁজের খবর জানিয়েছেন। রিপন শেখের (৪০) বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলার শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে। দুর্ঘটনার দিন তিনি তার ছোট ভাই সুমন শেখের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।

মুক্তা আক্তার জানান, তার বড় ভাই রিপন শেখ দুর্ঘটনার দিন রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজার মুরগির ফার্ম বাসস্ট্যান্ডে সুমনকে রেখে চা পান করতে যান। কিন্তু সুমন ফিরে এসে দেখেন, রিপন আর সেখানে নেই। এরপর, সুমন ঢাকায় চলে যান এবং বাড়িতে জানিয়ে দেন তিনি নিরাপদে পৌঁছেছেন। তবে রিপনের কোন ফোন ছিল না, তাই তার খোঁজ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মুক্তা আক্তার জানান, তার বড় ভাই ঢাকায় পৌঁছানোর পর ফোনে যোগাযোগের কথা ছিল, কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর বুধবার রাতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবির ঘটনা ঘটে এবং পরিবারের সদস্যরা এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন, বড় ভাই ওই বাসে ছিলেন কি না তা নিয়ে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তা আক্তার তার নিখোঁজ ভাইয়ের খবর আমাদের জানিয়েছিলেন। তবে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি যে তার ভাই ওই সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রী ছিলেন কি না। আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং কোনো মৃতদেহ পাওয়া গেলে আমরা তা নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখব।"

উদ্ধার অভিযান তৃতীয় দিনে অব্যাহত রয়েছে এবং পদ্মা নদীর গভীরে আরও মরদেহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ডুবুরি দল নিদিষ্ট এলাকা খুঁজে দেখছে এবং নিখোঁজদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে।

এই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি এক মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দিনাজপুর থেকে আসা স্বজনদের কাছে এই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

রাজবাড়ীর ১৮ জন নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে, কালুখালী উপজেলার একটি পরিবারের সদস্য মানিকগঞ্জে অবস্থান করায় তাদের সাথে যোগাযোগ করে চেক প্রদান করা হবে।