যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ তাদের বেশ কিছু বড় বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। মূলত অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে 'সেকশন ৩০১'-এর অধীনে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। এর ভিত্তিতে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই এসব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি শুল্কনীতি বাতিল করার পরই এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ট্রাম্প প্রশাসন।

আওতাভুক্ত দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, চীন ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ আরও বেশ কিছু দেশ এই তালিকায় রয়েছে।

শুল্ক আরোপে নিয়ে তদন্ত অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মিললে জুলাই মাসের আগেই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেছেন, যা ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

গত বছর এপ্রিলে ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ককে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানায়, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, চুক্তির অন্যান্য শর্তগুলো বহাল থাকবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, জুলাইয়ে বর্তমান শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তারা তদন্ত শেষ করতে চান। মূলত আদালতের আইনি বাধার মুখে বিকল্প পথে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিশ্চিত করতেই এই তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা মার্চে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।