ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে ‘পারমাণবিক’ বিপর্যয় ঘটাতে চাইছে: রাশিয়া , আন্তর্জাতিক, রাশিয়া, ইরান, আমেরিকা, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, পারমাণবিক, পরমাণু,
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।   ছবি: সংগৃহীত

রানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এর নিকটবর্তী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল–এর সাম্প্রতিক সামরিক হামলার বিষয়ে রাশিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাশিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ধ্বংসাত্মক’ আখ্যায়িত করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, গত মঙ্গলবার সচল ১ নম্বর ইউনিটের একেবারে কাছে হামলা চালানো হয়েছে, যা কোনো মুহূর্তেই মহাপ্রলয়ঙ্করী পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগ্রাসনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলে বিশাল পারমাণবিক বিপর্যয় ঘটাতে চাচ্ছে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছে। এছাড়া বুশেহরে কর্মরত সাধারণ ইরানি নাগরিক ও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জীবন বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে। ক্রেমলিন বারবার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

রাশিয়া মনে করিয়ে দিয়েছে, বুশেহর কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইইএ)-এর সেফগার্ড চুক্তির আওতাভুক্ত। তাই এর আশেপাশে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মস্কো আইইএ ও জাতিসংঘকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ওয়াশিংটন থেকে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি যে বুশেহরে হামলা হবে না, ফলে শঙ্কা বাড়ছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বুশেহরের ওপর আঘাত অপূরণীয় মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তাই অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান করা হচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যেই তার শীর্ষ নেতৃত্ব হারিয়েছে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে বুশেহরে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা শুধু ইরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল

আরবিএ/আরটিএনএন