ইসি সানাউল্লাহ, নির্বাচণ, আচরণ বিধি
ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণায় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অনলাইনে প্রচার চালালে তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে না।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিয়মাবলি তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশনার জানান, একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের সময়সীমা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, ওই সময়ের মধ্যে যেসব ভোটার কেন্দ্রের সীমানার ভেতরে অবস্থান করবেন, আইন অনুযায়ী তাদের সবার ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরো বলেন, “দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট আজ সকাল পর্যন্ত পৌঁছেছে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।” ভোট পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “ভোটকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব বডি ওর্ন ক্যামেরার ফিড সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।”

তিনি জানান, পাঁচ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে বিতরণ শুরু হয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। ভোটের দিন চার দফা ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোটাররা গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সংসদীয় আসন ও গণভোটের ফল একসঙ্গে গণনা করা হবে এবং অধিকাংশ ফলাফল ভোটের রাতেই পাওয়া যাবে। গণভোটের ফলাফল সারা দেশের ভোটের মেজরিটির ভিত্তিতে ঘোষণা করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ফলাফল প্রকাশে তাড়াহুড়ো করা হবে না। প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে শতাধিক প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। কালো টাকা ছড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”