আসিফ নজরুল, বিসিবি, আইসিসি
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল   ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল বলেন, ‘তারা (বিসিবি) যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি করেছে, আইসিসি এখন বলছে তারা কোনো শাস্তি দেবে না। বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক আমাদের করবে। অনেক দারুণ এক অর্জন। আমি স্যালুট জানাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে। এমন সিদ্ধান্ত দশবার নেওয়ার সুযোগ থাকলে দশবারই নেওয়া উচিত।’

সূচি অনুযায়ী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল বিসিবি। এ বিষয়ে আইসিসি ও বিসিবি নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপে না খেলায় কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও বিসিবি নিয়েছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ বাংলাদেশের ক্রিকেট সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্য খেলাগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ভবিষ্যৎ ক্রীড়ামন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু বৈশ্বিক বাজারের কথা ভেবে একটি খেলাকে প্রাধান্য দিলে হবে না। দেশের ঐতিহ্য ও মাঠপর্যায়ের খেলাগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালেও কোনো ধরনের শাস্তি বা আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। উল্টো ভবিষ্যতে একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বাগতিক হওয়ার সুসংবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে হতাশা বিরাজ করছিল। তবে লাহোরে আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বরফ গলেছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিসিবির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।

বরং আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে, টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য অর্থ এবং লভ্যাংশ নিয়মমাফিক বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এখানেই শেষ নয়, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের ভবিষ্যৎ সফরসূচির (এফটিপি) চক্রে বাংলাদেশকে এককভাবে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।