জামায়াতে ইসলামী, নির্বাচন, শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়   ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা জনগণের বিজয়ের অপেক্ষায় আছি। এ অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের সকল কর্মকর্তার উচিত হবে নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকা। মোঙ্গলবার রাতে (১০ ফেব্রুয়ারি ) রাজধানীর মগবাজারে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।”

এছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের কর্মীদের নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে যে গণভোট হবে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্য হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জাতি অতীত রাজনীতির ভুক্তভোগী। আমরা জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচার সম্পন্ন এক মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেবো।’

নির্বাচন ঘিরে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, পরপর ৪টি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সামনের নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী উৎসবের আমেজ বইছে। গণরায় প্রতিষ্ঠা হলে জাতির আনন্দ পূর্ণতা পাবে৷  এছাড়া ভোটের সময় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক অপপ্রচার হতে পারে। জনগণকে আহ্বান জানাবো ১১ দলের কেন্দ্রীয় বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো বক্তব্যকে নির্দেশনা হিসেবে না নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ ভোট ডাকাতি করতে আসলে আমরা জনগণকে আহ্বান জানাবো প্রতিহত করার। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন হলে সেটি জনগণের সরকার হবে বলে মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। 

জামায়াত আমির কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যারা পরাজয়ের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত, যেকোনো পক্ষ যেকোনো কাজ এ ধরনের করতে পারে। মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে পারে ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য, আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য। কিন্তু না, সবকিছুকে জয় করেই ইনশা আল্লাহ আপনারা সেদিন আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং ভোটের রেজাল্ট হাতে না নিয়ে আপনারা কেউ ফিরবেন না। কারণ, আপনি ভোট দেওয়ার পরেও আপনার ভোট নয়ছয় হয়ে যেতে পারে। আবার ভোট দেওয়ার আগেও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা—কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণকে বলব যে বিভিন্ন ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে। জনগণের সচেতনতা এবং ক্ষেত্রবিশেষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধই কেবল সকল অপতৎপরতার উপযুক্ত জবাব হতে পারে।’

জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের যুবসমাজ ঘুমিয়ে পড়েনি। তাদের অসমাপ্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য তারা এই নির্বাচনকে সফল করে তুলবে যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে। কেউ অন্য কিছু করতে চাইলে আমরা অনুরোধ করব জনগণ যেন নিজেদের অধিকারের পক্ষে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং স্পষ্ট জবাব দিয়ে দেয়। আমরা আশা করছি, জনতারই বিজয় হবে শেষ পর্যন্ত ইনশা আল্লাহ।’
‘সরকারি কর্মচারীরা যেন কোনো পক্ষ না নেয়’

ব্রিফিংয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে কেউ নির্দিষ্ট কারও পক্ষ নেবে, সেটি জামায়াত দেখতে চায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারও আনুকূল্যও চাই না, আবার আমরা অন্য কাউকে আনুকূল্য দেখানো হোক, সেটাও আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই সবাই নিরপেক্ষতার সাথে যার যার জায়গা থেকে এ দায়িত্ব পালন করবেন।’  
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘পেছন পথে কেউ এসে কিছু করে সফল হতে পারবে না, এটা আমরা মনে করি না। নির্বাচন প্রক্রিয়ার সাথে যাঁরা আছেন, নির্বাচন কমিশন তারপরে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত এবং যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত, শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত—তাঁদের সকলের প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ দেশ আপনাদেরও। আপনারা ন্যায়নিষ্ঠভাবে, নিরপেক্ষভাবে, সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে জনগণের ভালোবাসা পাবেন, সমর্থন পাবেন এবং জনগণ আপনাদের এই কাজের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে অবশ্যই আপনাদের মূল্যায়ন করবে।’

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। বিপুল ব্যবধানে হ্যাঁ বিজয়ী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ খুলে যাবে, অতীতের নির্যাতন–নিপীড়নের অবসান হবে ও এর যৌক্তিক বিচার হবে, আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে শরিফ ওসমান বিন হাদি পর্যন্ত সবার হত্যার বিচার তাদের পরিবার পাবে।

১১ দলীয় জোটের বৈঠকে এদিন উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন।