লাল গোলাপ, ভালোবাসা দিবস
গোলাপ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে দামের কাঁটায়।   ছবি: সংগৃহীত

ভালোবাসা দিবস এলেই শহরের চেহারা বদলে যায়। মোড় থেকে ফুটপাত, পার্কের সামনে থেকে ব্যস্ত সড়কের ধারে—সবখানেই রঙিন ফুলের সমারোহ। আর সেই আয়োজনের কেন্দ্রে থাকে লাল গোলাপ, যেন ভালোবাসার অলিখিত প্রতীক। তবে এ বছরও সেই গোলাপ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বিদ্ধ হতে হচ্ছে দামের কাঁটায়।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শাহবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও ও হাজীপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ী ফুলের দোকানে লাল গোলাপের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা। অথচ স্বাভাবিক সময়ে যে গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকায় পাওয়া যায়, সেটিই বিশেষ দিবসের দিনে কয়েকগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। শুধু গোলাপ নয়, রজনীগন্ধা, জারবেরা কিংবা ছোট তোড়ার দামও ৫০ টাকার নিচে নয়।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি

সালামবাগে একদিনের জন্য দোকান বসানো আরেফিন খান জানান, কয়েকদিন আগেও একটি গোলাপ ৫ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু ভালোবাসা দিবসের দিনে পাইকারিতেই গোলাপের দাম ৩০-৪০ টাকায় উঠেছে। ভাড়া, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে ৬০ টাকার নিচে বিক্রি করলে লাভ থাকে না। তিনি বলেন, “আজ যা বিক্রি করার আজই করতে হবে। ফুল অবিক্রিত থাকলে নষ্ট হবে।”

হাজীপাড়ায় ভ্যানে ফুল বিক্রি করা আফজাল হোসেন জানান, ভালো মানের লাল গোলাপ ৭০ টাকা, তুলনামূলক কম মানের ৫০ টাকা। রজনীগন্ধা ও জারবেরাও ৫০ টাকা পিস। দুই-তিন ধরনের ফুলের ছোট তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তার ভাষায়, “আমি শুধু আজকের জন্য দোকান দিয়েছি। কাল কত দাম হবে জানি না।”

খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ফুল বিক্রি করা প্রণব চক্রবর্তী বলেন, “দুই-তিন বছর ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি কমছে। আগের মতো বিক্রি হলে একটা গোলাপ ১০০-১৫০ টাকাও হতো। এখন বিক্রি কম বলেই ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা বাড়লে দামও লাফিয়ে বাড়ে।”

ক্রেতাদের ক্ষোভ

দামের এমন ঊর্ধ্বগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক ক্রেতা। মো. সজিব বলেন, সকালে হাঁটতে বের হয়ে একটি গোলাপ কিনতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ৫০-৭০ টাকা শুনে আর কেনেননি। “ভালোবাসা দিবস এলেই কেন এমন হবে? এটা স্বাভাবিক নয়,” বলেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমিনুল হক অবশ্য বাড়তি দাম দিয়েই গোলাপ কিনেছেন। ৭০ টাকা চাওয়া হলেও দরকষাকষি করে ৬০ টাকায় একটি গোলাপ নেন। তার কথায়, “দাম বেশি জানি, কিন্তু প্রিয় মানুষকে দেওয়ার জন্য কিনতেই হলো।”

খিলগাঁওয়ে কথা হয় সখিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “উৎসব এলেই দাম বাড়ে, এতে সাধারণ মানুষই ভোগে। ভালোবাসা তো একদিনের নয়। বেশি দামে না কিনলে নিজেরাই দাম কমাতে বাধ্য হবে।”

চাহিদা-যোগানের হিসাব

ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বাড়ে। তবে এবার বিক্রি তুলনামূলক কম বলে জানান তারা। সকাল গড়ালেও অনেক দোকানে বিক্রি আশানুরূপ হয়নি।

সব মিলিয়ে ভালোবাসার দিনে লাল গোলাপের কদর কমেনি, কিন্তু তার সঙ্গে বেড়েছে দামের কাঁটা। প্রশ্ন থেকে যায়—ভালোবাসার প্রতীক কি প্রতিবছরই এমন বাড়তি মূল্য দাবি করবে, নাকি ক্রেতা-ব্যবসায়ীর সমন্বয়ে কোনো একসময় এই দামের নৈরাজ্য কমবে?