সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী।   ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮ ফ্ল্যাট ও আপার্টমেন্ট এবং ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অন্যান্য সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ ব্রিটিশ পাউন্ড। দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান এ আবেদন করেন।

আবেদন সূত্রে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এসব সম্পদ জব্দ করা প্রয়োজন। অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে দুদক, সিআইডি ও এনবিআরের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে।

তদন্তে উদ্ধার করা নথির মধ্যে রয়েছে- বিদেশে সম্পত্তি কেনার চুক্তিপত্র, ডিড, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানির রশিদ, চেক এবং ভাউচার। এছাড়া যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের প্রাথমিক তালিকাও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

লন্ডনের মেরিলিবোন স্কয়ারে ৬৫ লাখ ২১ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট, ওভাল ভিলেজে কয়েকটি ফ্ল্যাট, ক্ল্যারেনডন রোডে ১.২৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি এবং লিভারপুলের ওয়ান ইসলিংটন প্লাজায় একাধিক ইউনিটের তথ্য তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও হারো, স্লফ এবং প্রেস্টনসহ অন্যান্য এলাকায় আরও সম্পত্তির তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ফকিরা মসজিদ সংলগ্ন তালুকদার বাড়ি এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্তের গাড়িচালক মো. ইলিয়াস তালুকদারের প্রতিবেশী ওসমান তালুকদারের বাসা থেকে ২৩ বস্তা বিভিন্ন ধরনের নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার তথ্য ও নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দেশে অর্জিত সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যে (ইউকে) অবস্থিত সম্পত্তিসমূহও রয়েছে।

অনুসন্ধান কার্যক্রম চলাকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের স্থাবর সম্পত্তিসমূহ তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর বা অন্য কোনো উপায়ে নিষ্পত্তির চেষ্টা করছেন। উল্লিখিত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রয় বা অন্য কোনোভাবে বেহাত করা হলে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। 

এজন্য এসব সম্পত্তিসমূহ অবিলম্বে ক্রোক বা জব্দ করা এবং প্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে এমএলএআর-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে জব্দের আদেশ দেয়া একান্ত প্রয়োজন।