শাহজালাল, ফ্লাইট
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এসে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গত তিন দিনে বিভিন্ন বিমান সংস্থার মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দেশ-বিদেশগামী হাজারো যাত্রী।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোর সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকা থেকে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোতে।

সোমবার (২ মার্চ) বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। এর মধ্যে ছিল এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর একাধিক ফ্লাইট।

১ মার্চ (রোববার) বাতিল করা হয় ৪০টি ফ্লাইট। এদিন জাজিরা এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার, ফ্লাই দুবাই, কাতার এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া, কুয়েত এয়ারওয়েজ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং বিমানের ফ্লাইট বাতিল হয়।

২ মার্চ (সোমবার) আগাম ঘোষণা অনুযায়ী আরও ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও গালফ এয়ারের ফ্লাইট।

অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন নিয়ে তারা স্পষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না। টিকিট পুনঃনির্ধারণ ও অর্থ ফেরত নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে হেল্পডেস্কে ভিড় বেড়েছে।

সরকার মধ্যপ্রাচ্যগামী স্থগিত ফ্লাইটগুলো পুনঃনির্ধারণে নজরদারি করছে বলে জানা গেছে। তবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।