আয়নাঘর, ডিজিএফআই
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।   ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ঘিরে দীর্ঘদিনের গুম, নির্যাতন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার গ্রেপ্তারের পর।

বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এক-এগারোর সময় এবং পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে গুম, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি ‘ত্রাসের রাজত্ব’ গড়ে তুলেছিলেন মামুন খালেদ। তাকে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ নির্যাতনকেন্দ্রের অন্যতম রূপকার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের ফোনে আড়ি পেতে জিম্মি করা, বিরোধী মত দমনে নির্যাতন চালানো এবং কথিত জঙ্গি নাটক তৈরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসা থেকে উচ্ছেদের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেনা কর্মকর্তাদের জন্য গড়ে তোলা জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে শাস্তির সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালত তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে।

একজন সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, এক-এগারোর সময় তাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তার দাবি, সাংবাদিকদের একটি বিবৃতির উদ্যোগ নেওয়াই ছিল তার ‘অপরাধ’।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার অতীত কর্মকাণ্ডের আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একইসঙ্গে সাবেক আরও কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু অজানা অধ্যায় সামনে আসতে পারে।