পবিত্র ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলো থেকে শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের ঢল। কর্মব্যস্ত নগরজীবন ছেড়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে লাখো মানুষ ছুটে যান নিজ নিজ গ্রামে—নাড়ির টানে, শেকড়ের টানে।
ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনগুলোতে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন, বাস কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা আর শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়া—সব মিলিয়ে এক ভিন্ন আবহ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রওনা হন; কারও হাতে ঈদের কেনাকাটার ব্যাগ, কারও কোলে ছোট শিশু।
এ বছর অবশ্য ঈদের প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই ট্রেন ও বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) থেকে ট্রেনের অনলাইন ও বাসের কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ মার্চ থেকে শতভাগ অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে এবার অঞ্চলভেদে দুটি ভিন্ন সময়ে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে পাওয়া যাবে। যাত্রীরা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
সূচি অনুযায়ী ৩ মার্চ দেওয়া হয়েছে ১৩ মার্চের অগ্রিম টিকিট। ৪ মার্চ দেওয়া হচ্ছে ১৪ মার্চের টিকিট। ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ মার্চ দেওয়া হবে যথাক্রমে ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চের টিকিট।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পাঁচ জোড়া (১০টি) স্পেশাল ট্রেন যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৪৭টি অতিরিক্ত এমজি কোচ সার্ভিসে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রা সফল করতে আগামী ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি (অফ-ডে) বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত যাত্রার টিকিট আগাম সংগ্রহ করা যাবে। সংগঠনের সেক্রেটারি শুভংকর ঘোষ রাকেশ জানান, সকাল থেকে কাউন্টার ও অনলাইন—দুই মাধ্যমেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। যাত্রীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাস ও আসন নির্বাচন করে টিকিট কিনতে পারবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় ক্ষেত্রেই একই ভাড়া কার্যকর থাকবে। এদিকে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন ঈদে দূরপাল্লার বাস পরিচালনা করলেও তাদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
আজ ট্রেন স্টেশনে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের সুবিধা থাকায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সায়দাবাদ বাস কাউন্টারগুলোতেও এখনো তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। তবে বরিশাল অঞ্চলের বেশ কিছু কাউন্টারে কিছুটা ভিড় দেখা গেছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও সচেতনতার বিকল্প নেই। যাত্রীদের উচিত নির্ধারিত ভাড়া প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলা এবং ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলা।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!