ট্রাফিক জ্যাম, ঢাকা, জানযট, বাস, বাইক, রিকশা,জাতীয়, ভোগান্তী, ট্রাফিক সিগন্যাল,
রাজধাণীতে জানযটের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে রাজধানীর সড়কে গাড়ির চাপ কমে গেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্বজ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ি ব্যবহার কমাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা আগের তুলনায় কম দেখা গেছে। মানুষ এখন সাইকেল, রিকশা বা পাবলিক বাসের মতো বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করছেন। ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন চৌরাস্তা তৎপর রয়েছেন যাতে গাড়ি ধীর হলেও সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে এবং যানজট সৃষ্টি না হয়। তবে ধীরগতি ও দীর্ঘ লাইনের ঘটনা কিছুটা কমলেও সকাল-সকালই অনেক এলাকায় যানজট দেখা গেছে।

রবিন হাসান নামের এক যাত্রী, বাংলামোটর সিগনালে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, “আগে এখানে বাসের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো না। এখন বাস কম আসে, বাইক ও তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দূরে যেতে চাইছে না। গাড়ি কমলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেনি।”

নিলয় নামের একজন বাইক আরোহী বলেন, “রাস্তায় গাড়ির চাপ কমলেও লোকাল বাসগুলো যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করায়, বেশীরভাগ সময় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পিছনের গাড়ি ব্লক করে। ফলে রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকলেও যানজটের সৃষ্টি হয়।”

বাইক আরোহী আরও বলেন, “রাত হলেই লং রুটের বাসগুলো ঢুকতে শুরু করে। বাসগুলো যাবেই, তবে তা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাস্তা ব্লক করে। এমনকি রিকশাগুলোও এখন নিজের ইচ্ছামতো রাস্তায় চলাচল করছে। সাধারণ ট্রাফিক আইনও মানছে না। ফলে রাস্তায় গাড়ির চাপ কমলেও তার ভালো প্রভাবের বদলে খারাপ প্রভাব বেশি পোহাতে হচ্ছে।”

শহরের যানজট সাময়িকভাবে কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি। তেলের সরবরাহ আরও সীমিত হলে সড়কের চলাচল আবার জটিল হয়ে উঠতে পারে। জনগণের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ শুধুমাত্র সিগন্যাল প্রদান করছে; তাদের অন্যান্য দায়িত্ব তারা হয়তো ভুলে গেছেন।

শিমু/আরটিএনএন