চুয়াডাঙ্গায় তীব্র জ্বালানি সংকট এবং তেল বিতরণ কার্যক্রমে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রবর্তিত ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ নীতি বাস্তবায়নে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়া এলাকার ‘সুগন্ধা তেল পাম্পে’ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শত শত মোটরসাইকেল চালক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করতে হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত রোদে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ চালক সুগন্ধা পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর হঠাৎ পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘তেল শেষ’ বলে ঘোষণা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ চালকরা ‘ফুয়েল কার্ড’ হাতে নিয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কার্ড থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তেল পাচ্ছে না, অথচ নেপথ্যে চলছে মোটা অংকের ঘুষের কারবার। চালকরা অভিযোগ করেন, কার্ডে ৫০০ টাকার এন্ট্রি থাকলেও অতিরিক্ত ১০০ টাকা দিলে ১৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া ইমার্জেন্সি লাইনের দোহাই দিয়ে পুলিশ ও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বেআইনিভাবে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তেল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রবাল কুমার দাস আক্ষেপ করে বলেন, আগামীকাল ৩০ কিলোমিটার দূরে কর্মস্থলে যেতে হবে। গত দুই দিন চুয়াডাঙ্গার সব পাম্প ঘুরেও এক ফোঁটা তেল জোগাড় করতে পারিনি। একই অবস্থা এনজিও কর্মী ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের।
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহকারী মেহেদী হাসান জানান, তেল না থাকায় তাদের প্রতিনিধিরা ফিল্ডে যেতে পারছেন না, যা সরাসরি সাধারণ রোগীদের ওপর প্রভাব ফেলছে। তারা ওষুধ সরবরাহকারী ও জরুরি সেবার যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আজ হাতেগোনা কয়েকটি পাম্প খোলা থাকায় চাপ বেশি ছিল। আগামীকাল থেকে জেলার অন্তত ১০টি পাম্পে একযোগে তেল বিতরণ করা হবে, আশা করছি এতে ভোগান্তি কমবে।
অন্যদিকে, অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান। তিনি বলেন, “শৃঙ্খলার জন্য কার্ড সিস্টেম চালু করা হয়েছে। যারা কার্ড ছাড়া তেল দিচ্ছে তাদের ইতোমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বা ইমার্জেন্সি লাইনের অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হবে। কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” শহরের সাধারণ মানুষের দাবি, শুধুমাত্র কার্ড সিস্টেম চালু করলেই হবে না, সরবরাহের পরিমাণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ গ্রাহকদের এই ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!