যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার ইরানের শিক্ষা খাতে পড়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরান সরকারের অভিযোগ, চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটির ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানায়।

ইরানের বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হোসেইন সিমাই সাররাফ বলেন, হামলাগুলোর লক্ষ্য সামরিক স্থাপনা নয়; বরং শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তার দাবি, এসব হামলার কারণে লাখো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের রাজধানী তেহরানের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহিদ বেহেস্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ভবন সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং স্থানীয় গণমাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গবেষণা অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে।

তেহরানের অভিযোগ, এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ইরানের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তেহরান সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে চলমান সংঘাত শিক্ষা খাতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।