ইরান যুদ্ধের কারণে ১৪ দিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচক। একই সময়ে সীমিত পরিসরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটও ঢাকা ছেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই সময়ে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯১টি।
চলতি মাসের প্রথম দিকে বিমান চলাচলে বড় ধরনের ভাড়া ও রুটে প্রভাব পড়েছে। বেবিচকের (বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বাতিলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলায় শুরু করে, জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। সেদিন যুদ্ধের ধাক্কায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দেয় বেবিচক। তবে সেদিনও ছয়টি ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যে গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল সৌদি আরবগামী, আর একটি ওমানের মাস্কাটগামী।
১ মার্চ এক নজরে দেখা যায়, ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। একই দিনে মোট ২০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এগুলোর মধ্যে সৌদি আরব যাওয়ার ১৬টি ফ্লাইট এবং মাস্কাটের ৪টি ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরের দিন, ২ মার্চ, বাতিল হয় ৪৬টি ফ্লাইট এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ১৮টি ফ্লাইট। ৩ মার্চ বাতিলের সংখ্যা ছিল ৩৯টি, যেখানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গেছে ২২টি ফ্লাইট। ৪ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হলেও ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৫ মার্চ বাতিল হয় ৩৬টি ফ্লাইট এবং একই দিনে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ৩৮টি ফ্লাইট। ৬ মার্চ ধাপে ধাপে বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪টি, যা সমান ছিল ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের সংখ্যার সঙ্গে।
৭ মার্চ বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট, তবে ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ৩৯টি ফ্লাইট। ৮ মার্চ বাতিলের সংখ্যা ২৮টি এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ৩১টি ফ্লাইট। ৯ মার্চ ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ৪০টি ফ্লাইট। ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল হলেও, ঢাকা থেকে উড়েছে ৪২টি ফ্লাইট। ১১ মার্চ বাতিলের সংখ্যা ২৭টি, এবং ৩৬টি ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালিত হয়। ১২ মার্চ বাতিল হয় ২৮টি ফ্লাইট এবং ৪৮টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। শেষে শুক্রবার ১৩ মার্চ, বাতিল হয় ২৫টি ফ্লাইট এবং এদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ৩৭টি ফ্লাইট।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা পুনরায় চালু হওয়া মাত্রই ফ্লাইট শিডিউল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!