তেল, যুদ্ধ, ইরান, শিল্প, আমেরিকা, সংকট, জ্বালানি, জাতীয়,
জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।   ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব শিল্প খাতের উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াবে। তাই শিল্প খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশে পড়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নেওয়ার ভিড় বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ মার্চ থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছে না এবং পরিবহন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানির ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ও বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় এ পরিস্থিতি চললে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে।

গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পখাতেও এর প্রভাব পড়ছে। অনেক কারখানায় জেনারেটর চালানো ও পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ধীরগতিতে চলছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে। এতে শ্রমিকদের কাজের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শিল্প খাত দেশের কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই জ্বালানি সংকটের সময় শিল্প উৎপাদন সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জ্বালানি সরবরাহে পরিকল্পিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে শিল্প খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। আর দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

আরবিএ/আরটিএনএন