কারাগার, রাজসাক্ষী মামুন
বন্দী থাকা আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক মন্ত্রী, এমপিরা।   ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশের কারাগারগুলোতে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন হাজতি আসামি ও বন্দিরা। রাজধানীর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে অংশ নেন সেখানে বন্দি থাকা সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও সরকারি কর্মকর্তারা। নামাজ শেষে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে আলোচিত জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে এড়িয়ে চলেন সবাই। কেউ তার সঙ্গে কথা বলা বা কোলাকুলিতে অংশ নেননি।

শনিবার (২১ মার্চ) কারাগার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ অংশে সকাল সাড়ে ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলাসহ অন্যান্য বন্দিরা অংশ নেন। একই জামাতে অংশ নেন রাজসাক্ষী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনও।

জামাত শেষে অন্যান্য বন্দিরা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত থাকলেও তিনি আলাদা অবস্থান করেন। তার চারপাশে ছিল অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উপস্থিতদের মধ্যে তার সঙ্গে মেলামেশার কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি।

কারাগারে ঈদের বিশেষ আয়োজন

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, ঈদ উপলক্ষে কারাগারে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বন্দি ও কারাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, সকালে বন্দিদের জন্য মুড়ি ও পায়েস পরিবেশন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বন্দিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সবকিছুই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদের দুপুরে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মেন্যুতে ছিল পোলাও, গরুর রেজালা (বিকল্প হিসেবে খাসির মাংস), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ এবং পান-সুপারি। রাতের খাবারে রাখা হয়েছে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৩টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার হাজতি ও কয়েদি রয়েছে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ সুবিধাও রাখা হয়েছে। ঈদের দিনসহ পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন স্বজনদের রান্না করা খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন তারা। পাশাপাশি প্রত্যেক বন্দি মোবাইল ফোনে তিন মিনিট করে স্বজনদের সঙ্গে বিনামূল্যে কথা বলার সুযোগ পাবেন।