রিং রোডে অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, জাতীয়, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, দোকান উচ্ছেদ,
উচ্ছেদের দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলীর রিং রোড এলাকায় অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়কের যানজট কমানোর লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান শুরু হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। অনেকের দোকানের সামনে রাখা মালামাল জব্দ করা হয় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়।

অভিযানে দেখা যায়, রাস্তার পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফুটপাত ও সড়কে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় অনেককে সতর্ক করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সিভিল জজ) মো. আল-ফয়সাল অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, “ফুটপাতে মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কার্যক্রম না করার জন্য আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই তা মানেননি, তাই কাউকে সতর্ক ও কাউকে জরিমানা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল যাতে পুনরায় গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করছি না। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনসম্মতভাবেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।”

অভিযানে মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আসলাম সাগরসহ পুলিশের প্রায় অর্ধশত সদস্য অংশ নেন। জানা গেছে, শ্যামলী রিং রোড ছাড়াও মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোড ও সলিমুল্লাহ রোড এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে।

স্থানীয় দোকানি মো. বাশেত বলেন, “অভিযানের ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল, তাই অনেকেই আগেই দোকান সরিয়ে নিয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত না হলে আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। বিকেলের পরই অনেকে আবার বসে পড়ে, ফলে যানজটও আগের মতোই থেকে যায়।”

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি জরুরি, না হলে এ ধরনের অভিযানের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

আরবিএ/আরটিএনএন