একদিনে হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে সরকার।
একদিনে হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে সরকার।   ছবি: সংগৃহীত

দেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। সংক্রমণ ইতোমধ্যেই দেশের সবকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের চারটি জেলা—কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া এবং ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আড়াই বছরের মাসুদা খাতুন, ময়মনসিংহে এক শিশু এবং টাঙ্গাইলে আরো একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় আটদিন ধরে চিকিৎসাধীন আফরান চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি, ফলে শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে  মাসুদা খাতুন নামে আড়াই বছরের এক শিশুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত জনে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, শিশুটি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতে নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

বর্তমানে জেলায় মোট আক্রান্ত ৩৪৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৬ জন। গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১২ জন ভর্তি হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন। চিকিৎসকদের মতে, জেলায় হাম পরিস্থিতির বর্তমানে কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।

এদিকে, ময়মনসিংহে এবং টাঙ্গাইলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও শিশু আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্রান্ত শিশুর অধিকাংশই টিকা না নেওয়া এবং অসচেতনতার কারণে এ রোগে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৮৫ জন শিশুই, যাদের মধ্যে ২৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭০৯ জনে পৌঁছেছে। হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে।

প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার আগামী রোববার থেকে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। শুরুতে বেশি সংক্রমিত এলাকায় শিশুরা টিকা পাবেন। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা টিকা পাবেন।অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।