বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা করা বিরোধী দলের নৈতিক দায়িত্ব এবং সরকার যদি সেই অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে প্রতিবাদ ও প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। বিরোধী দলের কাজ হলো সরকারের ভুলগুলো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা। সরকার যদি বিরোধী দলের গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ করে, তাহলে তা স্বাগত জানানো হবে; অন্যথায় জনগণের স্বার্থে আন্দোলনে নামা হবে।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন থাকলেও সরকার তা অস্বীকার করেছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জনগণের পক্ষে কথা বললেও প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। গণভোট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, তারা তাদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে এবং জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। এটি রাজনৈতিক দ্বিচারিতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদে দাবি গৃহীত না হওয়ায় জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করা হয়েছে। বায়তুল মোকাররম থেকে দাবির পক্ষে কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। দেশে তেলের সংকটে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমস্যা আড়াল না করে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং বহুদলীয় সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ডিজিটাল শিক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তবতা বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষা ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা যাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ আলম তুহিন এবং সঞ্চালনা করেন মো. ইউসুফ আলী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সেলিম উদ্দিন, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, শরিফ আব্দুর রাজ্জাক, আলহাজ্ব হাফেজ ইউনুচ খান এবং আব্দুল্লাহ আল আমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!