ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই সংসদের সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন, বিজয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছেন। সরকারি ও বিরোধী উভয়েই সংসদকে কার্যকর রাখতে ভূমিকা রাখবেন এই প্রত্যাশা। আমি সাধারণত রাজনীতি বিষয়ে খুব একটা লেখালেখি করি না। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় মনে হলো এবিষয় লেখা প্রয়োজন। বর্তমানে নারী ইস্যুকে নিয়ে খুব চর্চা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারীকে যেভাবে মূল্যায়ন করে আসছে তার ছিটেফোঁটাও অন্যকোন দল করে কিনা সন্দেহ! আছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী সদস্যগণ পূর্ণমাত্রায় মর্যাদা ও স্বাধীনতা পেয়ে আসছেন। মহিলা বিভাগ মতামত প্রদান থেকে শুরু করে যাবতীয় তৎপরতায় ভূমিকা পালন করে আসছেন।এসব দেখে কেউ কেউ সহ্য করতে না পেরে ক্রমাগত নারী ইস্যু সামনে এনে জামায়াতকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে যা মোটেই কাম্য নয়।

নারীর ক্ষমতায়ন মানে এই নয় নারীকে কিছু দান করে তাকে কর্মহীন করে দেওয়া। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ এখন গরীব। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শাসক গোষ্ঠী এদেশের অর্থনীতি লুটপাট করে দেশকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে রেখেছে।অতীত ইতিহাস তার প্রমাণ। নতুন সরকার দুর্নীতি, লুটপাট করবে না, করতেও দিবে না এটা প্রত্যাশা। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়নের নামে যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে,সেটা কি পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিবে?নাকি আর্থিক সহায়তা নামে লুটপাট,নারী নির্যাতন কিংবা পারিবারিক অশান্তি ডেকে আনবে বিষয়টি ভাবার আছে!

আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটি একটি ভালো উদ্যোগ।সফল হলে মানুষ অন্তত একটু আস্হা পাবে। গভীর ভাবে চিন্তা করলে এটা শুভংকরের ফাঁকি কিনা?গত১০মার্চ ঢাকা ১৭আসন কড়াইল বস্তি থেকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযোগ ওঠেছে এলাকার নেতাদের মধ্যে এই টাকা বিতরণ হয়েছে।নামে মাত্র জন প্রতি পরিবারের একজন নারী সদস্য পেয়েছেন। আবার কোথাও এই টাকার জন্য মারামারি হয়েছে।ধরে নিলাম পরিবারের নারী যিনি এই টাকা পেয়েছেন।এই টাকার জন্য পরিবারের বাকি সদস্য কি চুপ করে থাকবেন? স্বামী কিংবা ছেলে যিনি বেকার তিনি ছলে বলে কৌশলে এই টাকার ভাগ বসানোর জন্য কি প্রচেষ্টা চালাবেন না? এই নিশ্চয়তা কি সরকার দিতে পারবেন? তাহলে নারীর ক্ষমতায়ন করতে গিয়ে গৃহ বিবাদ উস্কে দেওয়া হচ্ছে না তো! অপরদিকে নারীকে টাকা না দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে নারী আত্ম নির্ভরশীল হয়ে মর্যাদার সাথে জীবন যাপন করতে পারত। আবার নারীকে ক্ষমতায়ন করতে গিয়ে পুরুষকে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি?আমাদের দেশে বেকার শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অর্শিক্ষিত যেমন রয়েছে।তেমন কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা কম নয়।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৬৩%। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৬-২৭ লাখ। এর মধ্যে শিক্ষিত ও বিশেষ করে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্য (প্রায় ২৯%), এবং সবচেয়ে বেশি বেকার ঢাকা বিভাগে।  (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ, ২০ হাজার থেকে ২৬ লাখ ৬০ হাজারে। যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশ স্নাতক বা তার ওপরের ডিগ্রিধারী। তবে এই পরিস্থিতি আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।

তাহলে নারীর ক্ষমতায়নের নামে নারীকে আরও দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।তবে হ্যাঁ এখানে শর্ত দেওয়া যেত যতদিন কোন কাজ পাচ্ছে না ততদিন দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়েকে দেওয়া যেতে পারে। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে। উন্নত দেশে বেকার ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ইত্যাদি ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে সম্ভব হয়না এটাকা আসবে কোথা থেকে?

বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া।সেই অঙ্গীকার পূরণ করতে গিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করেই কার্ড বিতরণ করছে।এটাকা কোথা থেকে আসবে?একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে জানার অধিকার আছে। জানতে চাই।নারী হিসেবে হাত পেতে নিতে চাই না। কর্মসংস্থান চাই।যার মাধ্যমে মাস শেষে বেতন পাব পরিবারের সবার আয়ে সংসার চলবে। ঘরে ঘরে বেকার, মাদক আসক্ত,ব্যবসায় মন্দাভাব, চাঁদাবাজির দখলে বস্তি থেকে শুরু করে রাস্তার ফুটপাত, কিংবা সচিবালয় থেকে বাজার সবখানে চলছে নতুন নতুন কৌশলে সুদ,ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, কালোবাজারি, ব্যাংক লুট। এসবের সমাধান না করে শুধু নারীর ক্ষমতায়নের নামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ মোটেই সুফল বয়ে আনবে না। 

নারীর ক্ষমতায়ন চাই, কিন্তু এভাবে না।নারীকে মানুষ হিসেবে তার ন্যায্য অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে।সেটা পরিবার,সমাজ কিংবা রাষ্ট্র সবখানেই যুগ উপযোগী কর্মসংস্থান,আবাসন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী, নিরাপত্তা, যাতায়াত, শিক্ষা মর্যাদা ও অধিকার।