জামায়াত, হ্যাক
মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।   ছবি: আরটিএনএন

জামায়াত আমিরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি দলের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে সংঘটিত সাইবার আক্রমণ একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের টুইটার একাউন্ট ষড়যন্ত্র মূলকভাবে হ্যাক করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টায় আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। যারা এটি করেছে, তারা কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে বোঝা যায়।

হ্যাকিংয়ের কাজ একটি বিশেষ দল ও তাদের সাইবার টিমের মাধ্যমে করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে বিতর্কিত করা এবং আমিরের চরিত্র হনন ও মানহানি করার উদ্দেশ্যই সাইবার আক্রমণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, হ্যাকিংসহ সামাজিক মাধ্যমে নারীদের প্রতি নানা অবমাননাকর পোস্ট ও কমেন্ট এবং সম্প্রতি দেশব্যাপী নারী কর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়ে দলের মহিলা নেতারাও ইসিতে যাবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া হবে।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে হ্যাকাররা আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। ৪টা ৫৫ মিনিটে আমরা বুঝতে পারি এটি হ্যাক হয়েছে। ৫টা ২২ মিনিটে পাল্টা পোস্ট দিয়ে অবস্থা ব্যাখ্যা করা হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি বিশ্লেষণ করে বুঝে ওঠার পর রাত সাড়ে তিনটায় জিডি করা হয়। একটি ফেসবুক পেজও হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা ভালো কাজের জন্য রাজনীতি করি। আমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে তা ভালো কাজের মাধ্যমে করতে হবে। তারা যে কাজটি করেছে তা অত্যন্ত মন্দ।’

হ্যাকিংয়ের প্রমাণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ প্রজেক্টরের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd মেইল থেকে info@jamaat-e-islami.org এ মেইল পাঠানো হয় নির্বাচনী তথ্য আছে এমনটা বলে। কিন্তু এটা ছিল ফিশিং মেইল যার মাধ্যমে হ্যাকাররা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।

একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক  একাউন্ট হ্যাক করে আমিরের সেই পোস্টকে সমর্থন জানানো হয়। 

কয়েকদিন আগে মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেনের ফেসবুকও হ্যাক করার চেস্টা করা হয় বলেও জানান তিনি। 

পোস্টের ১ মিনিট পরে নেয়া স্ক্রিনশট ৬ঘণ্টা পর ভাইরাল করা হয়েছে, এতেই ষড়যন্ত্র বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন এ সাইবার বিশেষজ্ঞ।

 সরকারের ফরেনসিক বিভাগ ও সাইবার সিকিউরিটি টিমে হ্যাকিংয়ের বিস্তারিত তথ্য জমা দেয়া হবে বলে এসময় জানান তিনি।

এসময় জামায়াত নেতারা বলেন, বোরকা নিয়ে নোংরামো করা হচ্ছে যাতে মহিলারা ভোট চাইতে না যায় এবং ভোট দিতে না যায়। এ ধরণের সাইবার আক্রমন, অপপ্রচার, মানহানীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।