আসলাম চৌধুরী, আপিল বিভাগ
বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী।   ছবি: সংগৃহীত

ট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা চলমান আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের নির্বাচনী ফলাফলের চূড়ান্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের ফলে আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপাতত কোনো আইনগত বাধা থাকছে না। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করবে ওই আসনের নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত বৈধতা।

যমুনা ব্যাংকের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপি নেতা আসলামের আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান।

তিনি জানান, ঋণখেলাপির অভিযোগে যমুনা ব্যাংকের পক্ষে করা রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করেছিলেন। ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়।

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আদালত তা মুলতবি করে ২৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন। ধারাবাহিক শুনানির পর আপিল বিভাগ মঙ্গলবার আদেশ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী মোহাম্মদ ফয়জুল্লা ফয়েজ জানান, ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকার পরও নির্বাচন কমিশন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে যমুনা ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করেন। পরে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মন্তব্য করেন, ‘মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। না দিলে জনরোষ তৈরি হতে পারে—মানুষ হিসেবে কথাটা বললাম।’

সেদিন শুনানিতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরী নিজে কোনো ঋণ নেননি, তিনি কেবল জামিনদার।

অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি দাবি করেন, আসলাম চৌধুরী দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখার কোনো এখতিয়ার নেই এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে।