ছাত্রশিবির, ছাত্রদল
ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিবৃতি দিয়েছে।   ফাইল ছবি

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি শিবির। সংগঠনটির দাবি, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কর্মীরা জড়িত।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, গতরাতে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তারা দাবি করেছেন, হামলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ঢাকা পলিটেকনিকে ঘটে যাওয়া ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সহিংসতা, হল দখল ও ভিন্নমত দমনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। তারা বলেন, শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই সহিংসতা ঘটছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষাঙ্গন কখনোই সন্ত্রাস, হল দখল ও দখলদারিত্বের রাজনীতির ক্ষেত্র হতে পারে না। 

সাধারণ শিক্ষার্থী, শিবির কর্মী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর দোষ চাপানোর রাজনীতিকে তারা “ন্যক্কারজনক ও প্রতারণামূলক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ছাত্রশিবির নেতারা আরও দাবি করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না পড়ে তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তারা বলেন, ২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসমুক্ত, সহাবস্থানভিত্তিক ও দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু হল দখল ও পুনর্বাসনের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে তা জাতির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।