শোক প্রস্তাব, গোলাম আযম
গোলাম আযম।   ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গৃহীত শোক প্রস্তাবে শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমের নাম অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শহীদ গোলাম আযম ছিলেন মহান মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা, ভাষা সৈনিক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপকার ও মুসলিম মনীষী। জাতীয় সংসদে গৃহীত শোক প্রস্তাবে তার জোটসঙ্গী শহীদ খালেদা জিয়া ও জামায়াতের অন্য নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও গোলাম আযমের নাম উত্থাপন করা হয়নি।

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আবদুস সালাম প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে খোমেনী ইহসান বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ যখন বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ইতিহাসের সব অন্যায় ও বৈষম্য দূর করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আধুনিক ইসলামী আন্দোলনের রূপকার এবং সাবেক জামায়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, সে জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার যে ফর্মুলা তিনি দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খোমেনী ইহসান বলেন, জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে গোলাম আযমের নাম অন্তর্ভুক্ত না করা শুধু সংকীর্ণতাই নয়, বরং ইতিহাসের বিকৃতিও। তার দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ফর্মুলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে শহীদ খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে। তাই তাকে স্মরণ না করা মানে ঐতিহাসিক সত্যকে আড়াল করা।

বিবৃতিতে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদের স্পিকার ও সচিবালয়ের কাছে শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করুন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে আমরা আপনার পাশে আছি।