‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর বর্তমান সংসদ দাঁড়িয়ে আছে’ মন্তব্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমান আচরণ এবং সুবিচারের প্রত্যাশা করে। বক্তব্যের শেষে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে তিন দফা ‘অপরাধের’ অভিযোগ তুলে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
এর আগে বেলা দেড়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। যান্ত্রিক বিভ্রাট ও নামাজের বিরতি কাটিয়ে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবির ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন
বিকেলে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনটি কারণে বর্তমান রাষ্ট্রপতি অপরাধী। প্রথমত, তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, গত ৫ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা বললেও পরে তা অস্বীকার করে মিথ্যাচার করেছেন। তৃতীয়ত, তিনি যে অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর করেছেন, সেই অনুযায়ী সরকারি দল শপথ নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করেছিলাম এই সংসদে কোনো খুনি বা ফ্যাসিস্টের দোসর যেন বক্তব্য রাখতে না পারে। তাই আমরা উনার ভাষণ বর্জন করেছি।’
শোক প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক
অধিবেশনের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের প্রতি শোক প্রস্তাব আনা হয়। তবে এই প্রস্তাবকে ‘একপেশে’ ও ‘অভারসাম্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তিনি মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান। এদিকে, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এক বিবৃতিতে সাবেক জামায়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান
সংসদে নিজের প্রথম বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতি সমান আচরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নিজেকে ‘তরুণ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্পিকারের কাছ থেকে আমরা ন্যায়বিচার আশা করি।’ বক্তব্য শেষে তিনি সংসদ কক্ষে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!