পাকিস্তান দিবস
পল্টনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানী ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পাকিস্তান দিবস পালন করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। দিবসটি উপলক্ষে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা বাংলাদেশি মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ এ কে ফজলুল হক লাহোরে ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন, যার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দিনটি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ এ বছর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করে।

সংগঠনটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, উপমহাদেশে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের মুসলিম নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, যা সময়ের সাথে আড়ালে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, এ অবদান রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ১৯০৬ সালে ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহ-এর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। একইভাবে লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের ধারণা বাস্তব রূপ পায়।

বক্তারা অভিযোগ করেন, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের একটি অংশ সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে না এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতাদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না। তারা বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা এবং পূর্বসূরিদের সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

সভায় বক্তারা দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব জোরদারের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসান তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি মুসলমানদের সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘ এবং তা ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে। তিনি তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রমুখ নেতাদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সদস্য সচিব গালিব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম, মাওলানা জালালউদ্দীন রুমী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহিম ফেরদৌসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।