মুক্তিযুদ্ধকালীন
জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।    ছবি: আরটিএনএন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন বর্বরোচিত গণহত্যার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন, শহীদদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ এবং তাদের জাতীয়তা ও ধর্মভিত্তিক পরিচয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। 

একইসঙ্গে এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৫ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এ দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো ১৯৭১ সালের গণহত্যার একটি পূর্ণাঙ্গ, বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ তালিকা প্রণয়ন করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। শহীদদের সঠিক সংখ্যা এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আধুনিক ফরেনসিক পদ্ধতি, ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ঐতিহাসিক নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী শহীদ বেগম খালেদা জিয়া ইতিপূর্বে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণের বিষয়ে যে যৌক্তিক ও সত্যনিষ্ঠ সাহসী বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ছিল। একটি রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিটি শহীদের নাম, পরিচয়, জাতীয়তা এবং তাদের ধর্মীয় পরিচয় সংরক্ষণ করা। এটি কেবল ইতিহাসের দায়বদ্ধতা নয়, বরং শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শনের একমাত্র পথ।

বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার ধরনে সকল জাতিগোষ্ঠী, ভাষাভাষী ও ধর্মাবলম্বীদের পরিচয়ের বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত হওয়া জরুরি। এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনার জন্য জাতিসংঘকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর কারিগরি সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত সম্পন্ন হলে তা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথকেও সুগম করবে। পাশাপাশি গণহত্যায় পাকিস্তান ও ভারতসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রকৃত দায় নিরুপণ হলে ঐতিহাসিক দায় নিষ্পত্তি ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের রাষ্ট্র ও জাতিসমূহের মধ্যে রিকন্সিলেশন গড়ে উঠবে।

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ মনে করে, প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করে কোনো জাতি বেশিদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই বিতর্ক নিরসন এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে অনতিবিলম্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘জাতীয় তদন্ত কমিশন’ গঠন করে কাজ শুরু করার জন্য বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিবৃতিতে বর্তমান সরকারকে এই বিষয়ে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।