ইসলামী ছাত্রশিবির, ঈদ পুনর্মিলনী
বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীতে বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাদ মাগরিব রাজধানীর কালভার্ট রোডের সিগাল রেস্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার বিপরীতে সরকার অবস্থান নিয়েছে এবং শহীদদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

জ্বালানি সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং অনলাইন ক্লাসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাগপা ছাত্রকাফেলা, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র মিশন (ইরান), বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্রলীগ, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ, জুলাই ফোর্স ও নাগরিক ছাত্র ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিবসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে এবং বেকারত্বসহ মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা দেখা দিলে তা প্রতিহত করতে ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে তারা আন্দোলনে নামবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ছাত্ররাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।