জামায়াত আমির, ডা. শফিক, বিএনপি একই ফ্যাসিজমের পথে হাঁটছে: জামায়াত আমির
সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   ছবি: আরটিএনএন

বিএনপি জনগণকে প্রতারণা করে এখন একই ধরনের ফ্যাসিবাদী পথে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির কথাবার্তা ছিল জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এখন তাদের কর্মকাণ্ডে সেই একই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ 

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বিল জনস্বার্থে হওয়ায় বিরোধীদল সমর্থন দিলেও, অন্য কিছু বিলের মাধ্যমে জনগণের অধিকার খর্ব, সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার সীমিতকরণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল এসব বিষয়ে আপত্তি জানাতে গেলে সময়সীমার বাধার মুখে পড়েছে, যেখানে মন্ত্রীরা অসীম সময় পেয়েছেন—যা ন্যায়সঙ্গত নয়।

বিচারক নিয়োগ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এসব উদ্যোগ নির্বাহী বিভাগের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ তৈরি করছে, যা সংবিধান ও সাম্প্রতিক বিচারিক রায়ের পরিপন্থী। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা নতুন করে ফ্যাসিবাদে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার আইন নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা পূর্বঘোষিত নীতির বিরোধী।

তবে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলেও তা বর্জন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদল সংসদে থেকে জনগণের পক্ষে কথা বলবে এবং প্রয়োজন হলে আবারও প্রতিবাদ জানাবে।

এদিকে শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করছে। তিনি সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পরিবর্তন বা বাতিল করা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের যৌক্তিক আপত্তি উপেক্ষা করে এসব বিল পাস করা হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গণবিরোধী আইন পাসের মাধ্যমে সংসদের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণেই বিরোধীদল ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে।’