বেরোবির সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষকসহ ২০ জনের কারাদণ্ড, দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ।   ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।এ রায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য, শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। 

এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে পুলিশের সাবেক এসআই মো. আমীর হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ, গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

সাবেক প্রক্টর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড। দণ্ডিতদের মধ্যে কেবল সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আছেন, বাকিরা পলাতক।

বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান শামীমকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বি গ্লোরিয়াস, আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ ও মাসুদুল হাসান পেয়েছেন ৫ বছরের কারাদণ্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল ও হাফিজুর রহমান তুফানসহ আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশ সদস্যই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

রায়ের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা। মামলার অন্যতম সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম শাস্তি আরও বেশি হবে। আমরা এই রায়ে হতাশ। বিজ্ঞ আদালতের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করা হয়।”

শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা আহমাদুল হক আলভী বলেন, “বিচারের মাধ্যমে রায় ঘোষিত হয়েছে—এটি আমাদের প্রাপ্তি। কিন্তু হতাশার জায়গা হলো, হত্যাকাণ্ডে আরও অনেক পুলিশ ও ছাত্রলীগ সদস্য জড়িত ছিল, যাদের নাম সেভাবে আসেনি। আমরা প্রত্যাশিত রায় পাইনি।”

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁর বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্যটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।