রোজা, বিভ্রান্তি
রহমতের মাসে রোজা পালন নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে বেশ কিছু বিভ্রান্তি প্রচলিত আছে।   ছবি: আরটিএনএন

সংযম ও সংশোধনের মাস রমজান। সিয়াম সাধনার এ মাস এলে রোজা ঘিরে উৎসাহ যেমন বাড়ে, তেমনি রোজা রাখা ও রোজা ভেঙে যাওয়া নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তি পোষণ করেন। আবার খোদ রমজানকে ঘিরেও বিভ্রান্তি রয়েছে। অজ্ঞতা ও কার্যকর অনুশীলনের অভাব এটার জন্য দায়ী।

রোজা রাখা নিয়ে সাধারণ বিভ্রান্তি:

মুখে নিয়ত করা: অনেকে মনে করেন মৌখিক উচ্চারণে নিয়ত না করলে রোজা হয় না। এটা ভুল ধারণা। নিয়ত হলে মনের ব্যাপার। মুখে নিয়ত করা না করায় রোজার সওয়াবে বেশ-কম হয় না।

ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলা: অনেকেই মনে করেন ভুলবশত কিছু খেলে বা পান করলে রোজা ভেঙে যায়। আসলে ভুল করে খেলে রোজা নষ্ট হয় না; মনে পড়ার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে রোজা পূর্ণ করতে হয় ।

দাঁত মাজা বা ব্রাশ করা: সাধারণ ধারণা হলো রোজা রেখে টুথব্রাশ বা পেস্ট ব্যবহার করা যায় না। অধিকাংশ আলেমের মতে, পেস্ট যেন পেটে না যায় সেদিকে খেয়াল রেখে ব্রাশ করা জায়েজ তবে মাকরুহ, উদ্ভিদের মিসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নাহ।

থুতু গেলা: অনেকে মনে করেন থুতু/লালা গিললে রোজা ভেঙে যায়, যা সম্পূর্ণ ভুল। স্বাভাবিকভাবে থুতু গিললে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে মুখে অনেকক্ষণ জমিয়ে গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয়।

ইনজেকশন বা ওষুধ: অনেকের ধারণা সব ধরণের ইনজেকশনে রোজা ভেঙে যায়। মূলত যেসব ইনজেকশন সরাসরি পুষ্টি যোগায় না (যেমন: ব্যথা নাশক বা টিকা), সেগুলো নিলে রোজা ভঙে না। চোখে বা কানের ড্রপ এবং ইনহেলার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আলেমদের মতে রোজা নষ্ট হয় না। স্যালাইন বা শক্তি সরবরাহ করে এমন ইনজেকশন রোজা নষ্ট করে।

সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার: রোজা রেখে পারফিউম বা আতর ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি একটি সুন্নাহ আমল।

রক্ত দেওয়া বা টেস্ট করা: শরীরের কোনো অংশ কেটে রক্ত বের হলে বা চিকিৎসার প্রয়োজনে সামান্য রক্ত দিলে রোজা নষ্ট হয় না।

রমজান মাস নিয়ে সাধারণ বিভ্রান্তি:

শুধুমাত্র না খেয়ে থাকা: অনেকেই ভাবেন রমজান মানে শুধু উপবাস। আসলে এটি শারীরিক সংযমের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও মানসিক পবিত্রতা অর্জনের মাস । মিথ্যা বলা, গীবত বা পরনিন্দা করা রোজার সওয়াব কমিয়ে দেয়।

সবার জন্য রোজা বাধ্যতামূলক: এটি একটি বড় ভুল ধারণা। অসুস্থ, মুসাফির (ভ্রমণকারী), বৃদ্ধ, শিশু এবং ঋতুবতী বা সন্তানকে দুধ পান করানো নারীদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে শিশু ব্যাতিত অন্যদের রোজা কাযা আদায় করতে হবে পরে।

রমজান আলস্যের মাস: অনেকেই মনে করেন রোজা রেখে সারাদিন ঘুমানো বা কাজ না করা উচিত। প্রকৃতপক্ষে, রমজানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াই ইসলামের শিক্ষা।

সুপার শপিং ও অতিরিক্ত খাবার: রমজানকে অনেকে ভুরিভোজের মাস মনে করেন। সেহরি ও ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা বিলাসিতা করা সংযমের এই মাসের মূল চেতনার পরিপন্থী। অতিরিক্ত কেনা কাটা এবং নতুন জামা-কাপড় মানুষকে দেখানোর জন্য অযথা কোন কিছু কেনা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সূরা বানী ইসরাঈল: ২৭)।

তারাবিহ নিয়ে বিতর্ক: তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে ঝগড়া করা বা প্রথম কয়েকদিন পড়ে ছেড়ে দেওয়া একটি প্রচলিত ভুল অভ্যাস। নিয়মিত তারাবিহ পড়া উচিত।

 

আরবিএ/আরটিএনএন